ঈদের আগেই মোতালেব মনোয়ারা গার্মেন্টসসহ সব কারখানায় বকেয়া পরিশোধের দাবি; অন্যথায় বিকেএমইএ ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : মার্চ ১৩, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ন / ১০০০
ঈদের আগেই মোতালেব মনোয়ারা গার্মেন্টসসহ সব কারখানায় বকেয়া পরিশোধের দাবি; অন্যথায় বিকেএমইএ ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

ঈদের আগেই মোতালেব মনোয়ারা গার্মেন্টসসহ সব কারখানায় বকেয়া পরিশোধের দাবি; অন্যথায় বিকেএমইএ ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই নারায়ণগঞ্জের মোতালেব মনোয়ারা গার্মেন্টসসহ সকল শিল্প কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা, বেতন ও উৎসব বোনাস পরিশোধের দাবিতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ১১টায় নগরীর চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই সমাবেশ ও বিক্ষোভের আয়োজন করে ‘বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন’।

সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক আ. রব রবিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা ও ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মালিকপক্ষের তীব্র সমালোচনা করে অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, “মালিকরা সরকারের কাছ থেকে নানা প্রণোদনা নেবেন, ফ্যাক্টরির সংখ্যা বাড়াবেন, বহুতল ভবন নির্মাণ করবেন, দেশে বাড়ি-গাড়ি ও বিলাসবহুল রিসোর্ট বানাবেন, এমনকি বিদেশে টাকাও পাচার করবেন; অথচ দিন-রাত ঘাম ঝরানো শ্রমিকের পাওনা টাকা দেওয়ার বেলায় তাদের যত গড়িমসি! শ্রমিকদের পেটে লাথি মারা এই বৈষম্য মেনে নেওয়া যায় না।”

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “অবিলম্বে মোতালেব মনোয়ারা গার্মেন্টসসহ নারায়ণগঞ্জের যত গার্মেন্টস কারখানা আছে, ঈদের আগেই তাদের সকল শ্রমিকের বকেয়া বেতন ও বোনাস বুঝিয়ে দিতে হবে। তা না হলে আমাদের শ্রমিকরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে, রাজপথে ‘ভুখা মিছিল’ বের করে বিকেএমইএ কার্যালয়ে অবস্থান নেবে।”

শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না করার আহ্বান জানিয়ে এই প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা রূপক অর্থে বলেন, “ইতিহাস ভুলে যাবেন না। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, প্রবল অহংকারী ও পরাক্রমশালী নমরুদও টিকতে পারেনি সামান্য একটি মশার যন্ত্রণায়। সুতরাং শ্রমিকদের দুর্বল ভাবলে চরম ভুল করবেন।”

সমাবেশে অন্যান্য শ্রমিক নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন মাহমুদ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, মামুন চৌধুরী, আবু সুফিয়ান, মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শ্রমিকদের একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।