বন্দরে ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ তাণ্ডব, দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট আহত-১


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : মে ৫, ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ন / ১০০০
বন্দরে ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ তাণ্ডব, দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট আহত-১

বন্দরে ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ তাণ্ডব, দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট আহত-১

 

বন্দরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রামদা ফারদীন ‘কিশোর গ্যাং’ গ্রুপের বিরুদ্ধে বর্বরচিত হামলায় সিফাত (২৬) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছে। ওই সময় হামলাকারীরা দোকানপাট ভাংচুর চালিয়ে কয়েক লক্ষ টাকার মালামাল ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায় । গত সোমবার (৪ মে) রাতে বন্দর ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ড কলাবাগ ঝাউতলা এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।

এ ব্যাপারে আহত সিফাত বাদী হয়ে হামলাকারব ফারদিন,ফারিয়াজ, বরাত, আরাফাত ও নিজামসহ আরো ১/১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে বন্দর থানায় এ অভিযোগ দায়ের করে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মে দুপুরে বন্দরের ঝাউতলা এলাকায় আলাউদ্দিনের বাড়ির সামনে নিবির (২৬) নামে এক যুবককে মারধর করছিল স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। সিফাতের বন্ধু সাজিদ (২৩) এতে বাধা দিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায় তারা।পরবর্তীতে ওই দিন রাত ১১টার দিকে ঝাউতলা গোলগল্পা দোকানের সামনে সিফাত ও সাজিদ দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কিশোর গ্যাং লিডার ফারদীনগং । ১ নং বিবাদী গ্যাং লিডার ফারদিন ধারালো ‘বগি’ দা দিয়ে সিফাতের মাথায় কোপ মারলে তিনি হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার বাম হাতের তালু ও আঙুল কেটে গুরুত্বর জখম হয়। অন্য অভিযুক্তরা লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাড়ভাঙা জখম করে। হামলার এক পর্যায়ে ১ নং বিবাদী ফারদীন তার পকেট থেকে নগদ ৩,৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ৩ নং বিবাদী সাজিদের অটো গ্যারেজে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং ক্যাশ থেকে ১০,০০০ টাকা লুট করে। হামলার মুখে সিফাত ও সাজিদকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে স্থানীয় দোকানদার সাত্তারকেও বেধড়ক মারধর করা হয় এবং তার হোটেলের প্রায় ২০,০০০ টাকার মালামাল ভাঙচুর করা হয়। আহতরা দৌড়ে বাড়িতে আশ্রয় নিলে তারা বসতবাড়ির লোহার গেট এবং পাশের একটি চায়ের দোকানের শাটার কুপিয়ে আরও প্রায় ১০,০০০ টাকার ক্ষতিসাধন করে। আহতের আর্ত চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হতে থাকলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।

আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, চিহ্নিত এই কিশোর গ্যাংটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে।

বন্দর থানা অফিসার ইনচার্জ গোলাম মুক্তার আশরাফ জানায়,বন্দর কলাবাগ এলাকায় মারামারির খবর শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। উভয়পক্ষই অভিযোগ করেছে। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।