
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে অতিরিক্ত বাসভাড়া প্রত্যাহারের দাবিতে জেলা প্রশাসকে স্মারকলিপি
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে অতিরিক্ত বাসভাড়া প্রত্যাহারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা।
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণসংহতি আন্দোলন, এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতারা জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তেলের দাম বৃদ্ধিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে পরিবহন মালিকরা ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছেন।
তিনি দাবি করেন, বিআরটিএ’র নির্ধারণ অনুযায়ী প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ২ টাকা ১০ পয়সার মধ্যে থাকার কথা, কিন্তু বাস্তবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ৫৫ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ, শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া চালু এবং প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম সুজন বলেন, পরিবহন মালিকরা সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে একতরফাভাবে ৫ টাকা ভাড়া বৃদ্ধি করেছেন। সরকারের নির্ধারিত হারে ভাড়া বাড়ার কথা থাকলেও তা না মেনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জে একটি ‘বাস সিন্ডিকেট’ সক্রিয় থাকারও অভিযোগ তুলে বলেন, “নারায়ণগঞ্জে একটি বাস সিন্ডিকেট ও মাফিয়া আছে, তারা অতীতের সময় ওসমান পরিবারকে চাঁদা দিতো এবং এখনও সেই প্রক্রিয়াটি সক্রিয় রয়েছে। এবং তারা জনগণের মতামত ও প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করেই বাসভাড়া ৫ টাকা বৃদ্ধি করেছে।”
গণঅধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নাহিদ হোসেন বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অনিয়ম। পরিবহন খাতসহ সব সেক্টরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহানগর সেক্রেটারি সুলতান মাহমুদ বলেন, যৌক্তিক হিসেবে ভাড়া ৫২ টাকা হতে পারে, তবে বাস্তবে ৫৫ টাকা আদায় করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি আলোচনার মাধ্যমে এই অযৌক্তিক ভাড়া প্রত্যাহার এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্মারকলিপিতে নেতারা দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
আপনার মতামত লিখুন :