
পিটুনি খেলো বিশ্বস্ত কর্মী: রহস্যজনক কারনে নেতা ম্যানেজ!
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহামুদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ বিএনপির নেতা অকিল উদ্দীন ভূঁইয়া। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য। মামুন মাহামুদের নিজ কার্যালয়ে একদফা গালিগালাজ ও দ্বিতীয় দফায় বেদম পিটুনির শিকার হয়েছেন প্রবীণ বিএনপি নেতা অকিল উদ্দীন ভূঁইয়া। অথচ মামুন মাহামুদ রহস্যজনক কারনে হামলার নির্দেশদাতা জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির পক্ষ নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, আহত বিএনপি নেতার পরিবারকে সাফ নির্দেশ দিয়েছেন রনির বিরুদ্ধে মামলা কিংবা কারো কাছে যেনো অভিযোগ তোলা না হয়। এই বিষয়টি অকিল উদ্দীন ভূ্ঁইয়ার ছেলে স্বাধীন ভূঁইয়া ফেসবুকে পোস্ট বিস্তারিত লিখেছেন এবং মামুন মাহামুদকে উদ্দেশ্য করে একাধিকবার লিখেছেন ছিঃ ছিঃ ছি!
এদিকে বিচার না পেয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহামুদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে অকিল উদ্দীন ভূঁইয়ার ছেলে স্বাধীন ভূঁইয়া ফেসবুকে লিখেছেন, ফকিন্নির পোলার নাম রাখচে মিয়া খা। ধিক্কার আর নিন্দা জানাই প্রসেফর মামুন মাহামুদকে। উনি থাকতেও কোনো বিচারতো পাইলামই না, উল্টো উনি রনির নামে মামলা দিতে না করে। ছিঃ মামুন কাকা, ছিঃ। কি না করেছিলো আমার বাবা আপনার জন্য? দিন নাই, রাত নাই, আপনার জন্য জীবন দিতেও রাজি ছিল। নিন্দা জানাই মামুন কাকা, ছিঃ।
ঘটনা সূত্রে জানাগেছে, ৪ জুন বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ কার্যালয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অকিল উদ্দীন ভূঁইয়া ও মশিউর রহমান রনির মধ্যে অনুষ্ঠানের সামনে দাঁড়ানো নিয়ে তর্কবিতর্ক হয়। ওই সময় উপস্থিত জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সামনেই অকিল ভূঁইয়াকে হুমকি ধমকি ও গালিগালাজ করেন মশিউর রহমান রনি। মামুন মাহামুদের সামনেই মশিউর রহমান রনির এমন উদ্ধত্তপূর্ণ আচরণ দেখেও নির্বাক ছিলেন মামুন মাহামুদ। উল্টো মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব টিপু ও মামুন মাহামুদ প্রবীণ নেতা অকিলউদ্দীনকে চুপসে থাকতে নির্দেশ দেন। সপ্তাহব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ। মশিউর রহমান রনিসহ তার সমর্থকেরা উত্তেজিত হয়ে জেলা পরিষদের ভেতরেই মারমুখী হলে সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হওয়ার সময় জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণেই অকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার ওপর মশিউর রহমানের নির্দেশে কায়েস আহমেদ পল্লব, মেহেদী হাসান দোলনসহ ৯/১০জন সমর্থক হামলা চালান এবং তাঁকে কিল–ঘুষি মারতে থাকেন। গায়ে থাকা জামাকাপড় ছিড়ে ফেলেন। পরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা এগিয়ে অকিল উদ্দিন ভূঁইয়াকে ছাড়িয়ে নেন।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমে অকিল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘অনুষ্ঠানে আমরা একসঙ্গে ছিলাম। সামনে দাঁড়ানো নিয়ে আমার সঙ্গে ঝগড়া করে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি। ওই সময় সিনিয়র নেতাদের সামনে মাফও চেয়েছিল সে। কিন্তু অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হওয়ার সময় মশিউরের উপস্থিতিতে তাঁর পোলাপান অতর্কিত আমার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে।’
অভিযোগের বিষয়ে মশিউর রহমান রনি বলেন, ‘আমাদের দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার বিষয়টি মীমাংসা করে দেন নেতারা। আমিও তাঁর (অকিল উদ্দিন ভূঁইয়া) কাছে সরি বলেছি, তিনিও বলেছেন, ওনার ভুল হয়ে গেছে। পরে জানতে পারি, ওনার সঙ্গে কে বা কারা খারাপ আচরণ করেছে। পরে জেলা বিএনপির আহ্বায়কের নির্দেশে ঘটনার সঙ্গে জড়িত যুবদলের চারজনকে তাৎক্ষণিক ভিডিও দেখে সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
এ ঘটনায় জড়িত যুবদলের চারজনকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব ধরনের পদ–পদবি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মো. সুমন, মো. কাউসার, শ্রী নিতাই ও মো. দেলোয়ার হোসেন। তবে এই বহিষ্কার জেলা যুবদলের সদস্য সচিব এককভাবে একক সিদ্ধান্তে করেছেন। ৬ জুন শনিবার গণমাধ্যমে বিবৃতিতে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান সাদেক ওই ঘটনার বিচার দাবি করে বহিষ্কৃতরা যুবদলের কেউ নয় বলে জানান। একই সঙ্গে বহিষ্কারের বিষয়ে তিনি অবগতও নন।
আপনার মতামত লিখুন :