নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হলেও অনেক উন্নয়নে পিছিয়ে রয়েছে : মোহাম্মদ সোহাগ


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : জুন ৯, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ন / ১০০০
নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হলেও অনেক উন্নয়নে পিছিয়ে রয়েছে : মোহাম্মদ সোহাগ

নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হলেও অনেক উন্নয়নে পিছিয়ে রয়েছে : মোহাম্মদ সোহাগ

 

 

শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়নের আলোচনায় যেসব উদ্যোক্তার নাম গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হয়, তাদের মধ্যে অন্যতম মীম শরৎ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক এবং বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ সোহাগ।

 

দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক নেতৃত্বের পাশাপাশি জেলার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থেকে তিনি নিজেকে একজন দায়িত্বশীল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার বিশ্বাস, একটি জেলার উন্নয়ন শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর নির্ভর করে না; বরং সুশাসন, পরিকল্পিত নগরায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলা সম্ভব।

 

মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো জলাবদ্ধতা, যানজট, হকার সংকট, শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের অবাধ চলাচল। এসব সমস্যা সমাধানে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন জেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম।

 

তিনি বলেন, “শান্তির নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে এখনই সময় হাতে হাত রেখে কাজ করার। বিগত দিনের জঞ্জাল থেকে বের হয়ে আমাদের নতুনভাবে ভাবতে হবে। জলাবদ্ধতা দূর করতে হবে, শীতলক্ষ্যা নদীকে দূষণমুক্ত করতে হবে, সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে এবং নাগরিক সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।”

 

মোহাম্মদ সোহাগের মতে, নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হলেও সম্ভাবনার তুলনায় নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে। উন্নয়নের স্বার্থে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সকল পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

 

তার ভাষায়, একজন সংসদ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ এবং সিটি কর্পোরেশন যদি সমন্বিতভাবে কাজ করে, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব।

 

তিনি আরও বলেন, “আমরা সবাই নারায়ণগঞ্জের মানুষ। রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু জেলার উন্নয়নের প্রশ্নে সবাইকে এক হতে হবে। কারণ উন্নত নারায়ণগঞ্জ মানেই উন্নত বাংলাদেশ।”

 

সম্প্রতি পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরে মোহাম্মদ সোহাগ জানান, পবিত্র কাবা শরীফে তওয়াফকালে তিনি বিশেষভাবে নারায়ণগঞ্জবাসীর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া করেছেন।

 

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মক্কা শরীফে অবস্থানকালে আমি নারায়ণগঞ্জের মানুষের জন্য দোয়া করেছি। আল্লাহ যেন আমাদের শহরকে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যান। আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বৃদ্ধি পাক।”

 

দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন এই ব্যবসায়ী নেতা। তিনি বলেন, দেশের অনেক মেধাবী তরুণ ডাক্তার, প্রকৌশলী ও অন্যান্য পেশাজীবী বিদেশমুখী হচ্ছেন। একই সঙ্গে গ্রামীণ এলাকায় দক্ষ শিক্ষক ও চিকিৎসকের সংকটও দেখা দিচ্ছে। এ প্রবণতা রোধে দেশের ভেতরেই উন্নত কর্মপরিবেশ ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।

 

তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের সম্ভাবনা অপরিসীম। কৃষি, শিল্প, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে পরিকল্পিত বিনিয়োগ এবং দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশ আরও দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে।

 

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়নকে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, এ লক্ষ্যেই তিনি নারায়ণগঞ্জে একের পর এক শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হাজারো মানুষের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

 

তার মতে, উন্নয়নের সুফল তখনই প্রকৃত অর্থে জনগণের কাছে পৌঁছাবে, যখন নাগরিক সুবিধা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপদ পরিবেশ একসঙ্গে নিশ্চিত করা যাবে।

 

একজন উদ্যোক্তা, সংগঠক ও সমাজসচেতন নাগরিক হিসেবে মোহাম্মদ সোহাগের প্রত্যাশা, আগামী দিনের নারায়ণগঞ্জ হবে পরিচ্ছন্ন, যানজটমুক্ত, জলাবদ্ধতামুক্ত এবং শান্তিপূর্ণ একটি আধুনিক নগরী। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে তিনি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।