
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে রক্ত সংগ্রহে অবহেলা ও অদক্ষতার অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় অবস্থিত পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে রক্ত সংগ্রহে অবহেলা ও অদক্ষতার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, রক্ত নেওয়ার সময় বারবার সুই ফোটানোর কারণে ১৬ মাস বয়সী শিশু রাইয়ানের ডান হাতে গুরুতর জটিলতা দেখা দেয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে অস্ত্রোপচার করতে হয়।
শিশুটির চাচা আলামিন চৌধুরী জানান, গত বুধাবার (৮জুলাই) মাথায় একটি ছোট ফোঁড়া হওয়ায় স্থানীয় চিকিৎসক ডা. শফিউল আলম কয়েকটি রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী রাইয়ানকে সেদিন চাষাড়ার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে রক্ত সংগ্রহের সময় ল্যাবের কর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে একাধিকবার সুই ফোটান বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তার দাবি, বাসায় ফেরার পর থেকেই শিশুটির ডান হাত অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং তীব্র ব্যথায় সে সারারাত কান্নাকাটি করে। পরদিন চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তিনি দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, ভুলভাবে সুই প্রবেশ করানোর কারণে কনুই থেকে আঙুল পর্যন্ত প্রধান রক্তনালীতে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির হাত বাঁচাতে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়।
আলামিন চৌধুরী বলেন, যে সমস্যার জন্য শুধু একটি রক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন ছিল, সেটির কারণে আজ আমার ভাতিজাকে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসকের কোনো গাফিলতি ছিল না বলে আমরা মনে করি। সম্পূর্ণ দায় পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংশ্লিষ্ট স্টাফদের।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিশুর পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।
এ ঘটনায় পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশুদের রক্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মুশিউর রহমান জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। যদি কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা তাদের কোনো কর্মীর অবহেলা কিংবা অদক্ষতার কারণে রোগীর ক্ষতি হয়ে থাকে, তাহলে লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নথি পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :