
সোনারগাঁয়ে যুবককে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রাজু আহমেদ নামে এক যুবককে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২৬ জুলাই) রাতে উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরহোগলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
রাজু ওই এলাকার আয়নাল হকের ছেলে। তিনি স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন, পাশাপাশি গরুর খামার পরিচালনা করতেন।
তার স্ত্রী, দুই ছেলে, বাবা-মা এবং ভাই-বোন রয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে পুলিশ বলছে, এটি রাজনৈতিক নাকি পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘটিত হয়েছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রাজু একসময় বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও প্রায় তিন মাস আগে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহাদাত প্রধানের সাথে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ১১টায় রাজুর ফুফাতো ভাইয়ের সাথে স্থানীয় নুরুল ও জাকিরের বাকবিতন্ডা হয়। পরে বিষয়টি মারামারিতে রূপ নেয়। এসময় রাজু গিয়ে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরে নুরুল ও জাকিরের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাজুর বাড়িতে হামলা চালায়। ফুফাতো ভাইকে না পেয়ে হামলাকারীরা রাজুকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। তাকে রক্ষা করতে গেলে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মারধর করা হয়।
নিহত রাজুর মা সালেহা বেগম জানান, রোববার রাতে রাজুর এক ফুফাতো ভাইয়ের সাথে স্থানীয় নুরুল ও জাকিরের কথা-কাটাকাটি এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাজু সেখানে গিয়ে দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কিছুক্ষণ পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহাদাত বাহিনী প্রধানের সহযোগি নুরুল ও জাকিরের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়।
পরিবারের অভিযোগ, ফুফাতো ভাইকে না পেয়ে হামলাকারীরা রাজুর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে পরিবারের নারী সদস্যসহ অন্য স্বজনদেরও মারধর করা হয়। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজুকে মুন্সীগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহত অন্যদেরও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
নিহতের বড় বোন সোনিয়া বেগম বলেন, রাজু দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও প্রায় তিন মাস আগে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহাদাত প্রধানের সাথে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে রাজুকে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নিহত রাজু বিএনপির কোনো পদধারী নেতা নয়। তবে বিএনপির সমর্থক ছিল।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তিনি ও তার বাবা নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করছিলেন। নুরুল ও জাকিরের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। এ বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তিনি ও তার পরিবারের কোনো সদস্যের এ ঘটনার সাথে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।’
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
তিনি আরো বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্তে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :