একদিনের কসাই তারা


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : মে ২৮, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ন / ১০০০
একদিনের কসাই তারা

একদিনের কসাই তারা

পবিত্র ঈদ উল আযহা এলেই নারায়ণগঞ্জ শহরে বেড়ে যায় কসাইদের চাহিদা। আর সেই সুযোগে বছরের অন্য সময় ভিন্ন পেশায় থাকা অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ ঈদের দিনে হয়ে ওঠেন ‘একদিনের কসাই’। বাড়তি আয়ের আশায় গার্মেন্টস শ্রমিক, রিকশাচালক, দিনমজুর এমনকি ছোট ব্যবসায়ীরাও এদিন কসাইয়ের কাজ করছেন।

 

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কোথাও কয়েকজন মিলে দল বেধে কাজ করছেন, আবার কোথাও একজন কসাইয়ের সঙ্গে সহকারী হিসেবে কাজ করছেন আরও দুই-তিনজন।

 

শহরের জামতলা এলাকায় কোরবানির পশু কাটতে আসা আব্দুল হাকিম জানান, বছরের অন্য সময় তিনি একটি ছোট চায়ের দোকান চালান। তবে ঈদের সময় কসাইয়ের কাজ করে বাড়তি আয় করার চেষ্টা করেন।

 

তিনি বলেন, ঈদের সময় কসাইয়ের অনেক চাহিদা থাকে। তাই কয়েক বছর ধরেই এই কাজ করি। আজ তিনটা গরুর কাজ নিয়েছি। আগামীকালও একটা গরুর কাজ আছে। এই দুই দিনে যা আয় হয়, সেটা সংসারের কাজে অনেক উপকারে আসে।

 

একইভাবে ফতুল্লা, মাসদাইর, চাষাঢ়া, লালপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে অস্থায়ী কসাইদের ব্যস্ততা। অনেকেই আগেভাগে স্থানীয়ভাবে যোগাযোগ করে কাজ ঠিক করে রেখেছেন। কেউ কেউ আবার সকালেই এলাকায় ঘুরে কাজ খুঁজছেন।

 

তবে এসব একদিনের কসাইদের নিয়ে অভিযোগও রয়েছে সাধারণ মানুষের। অনেকেই বলছেন, পেশাদার অভিজ্ঞতা না থাকায় পশু জবাই ও মাংস কাটার সময় নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়।

 

ফতুল্লার লালপুর এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান তুহীন বলেন, ঈদের দিন ভালো কসাই পাওয়া খুব কঠিন হয়ে যায়। যাকে পাওয়া যায় তাকেই নিতে হয়। কিন্তু অনেক সময় তারা দক্ষ না হওয়ায় চামড়া কেটে ফেলে, মাংস ঠিকভাবে আলাদা করতে পারে না। এতে সময়ও বেশি লাগে।

 

স্থানীয়দের মতে, প্রতি বছর কোরবানির সময় পেশাদার কসাইয়ের তুলনায় পশুর সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। ফলে সাময়িকভাবে তৈরি হয় কসাই সংকট। আর সেই সুযোগেই বাড়তি আয়ের আশায় অনেকে এই পেশায় যুক্ত হন।

 

যারা নতুন করে কসাইয়ের কাজ করছেন তাদের অন্তত মৌলিক প্রশিক্ষণ থাকলে ভোগান্তি কিছুটা কমতো। একই সঙ্গে কোরবানির সময় দক্ষ কসাই তৈরিতে স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে।