প্রকাশিত:
৩ নভেম্বার ২০২৬, ২২:৩২
বন্দরের মদনপুরে ১০ হাজার পিচ ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
মহাসড়ক দিয়ে রাজধানীতে মরণনেশা মাদকের এক বিশাল চালান প্রবেশের চেষ্টা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। রাজশাহী ও নারায়ণগঞ্জের দুই ইউনিটের অভিযানে প্রায় ১০ হাজার পিস নিষিদ্ধ ইয়াবাসহ দুই আন্তঃজেলা শীর্ষ মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত বিশাল একটি পণ্যবাহী ট্রাক।
ঘটনার শুরু হয় সুনির্দিষ্ট একটি গোয়েন্দা তথ্যের মধ্য দিয়ে। দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান ট্রাকে করে রাজধানী ঢাকায় পাঠানোর চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে। তবে এসআরবি-র তীক্ষ্ণ নজরদারিতে বিষয়টি আগেই ধরা পড়ে। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরপরই অপরাধীদের ফাঁদে ফেলতে যৌথ ছক সাজায় এসআরবি-০৫, সিপিএসসি, রাজশাহী এবং এসআরবি-১১, সদর কোম্পানী, নারায়ণগঞ্জ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ০২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন মদনপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রাফি ফিলিং স্টেশনের সামনে শক্ত চেকপোস্ট স্থাপন করে এসআরবি’র চৌকস দল। সন্দেহভাজন যানবাহনগুলোতে শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি। অভিযানের একপর্যায়ে সন্দেহজনক হলুদ ও নীল রঙের একটি ট্রাক চেকপোস্টের কাছে পৌঁছালে এসআরবি সদস্যরা সেটিকে ব্যারিকেড দিয়ে থামার নির্দেশ দেন। চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলায় কোনো পালানোর পথ না পেয়ে ট্রাকে থাকা দুই ব্যক্তি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে উপস্থিত নিরপেক্ষ সাক্ষীদের সামনে ট্রাকটিতে কঠোর তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে গাড়ির ভেতরে অত্যন্ত চতুরতার সাথে লুকিয়ে রাখা সর্বমোট ৯,৮৭০ (নয় হাজার আটশত সত্তর) পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলেই উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে বিধি মোতাবেক জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে ইয়াবা এবং অপরাধে ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-৩৪৮১ নম্বরের ট্রাকটি জব্দ করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকেই হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় রাজশাহী জেলার চারঘাট থানার থানাপাড়া (মাঠপাড়া) এলাকার একাব্বর আলী ও আমেনা বেগমের ছেলে মোঃ ইয়াদুল ইসলাম (৪০) এবং একই জেলার বাঘা থানার মনিগ্রাম এলাকার জাহাঙ্গীর আলম ও বিলকিস বেগমের ছেলে মোঃ নয়ন ইসলাম (২৪)-কে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে পণ্য পরিবহনের আড়ালে সারা দেশে মাদকের বিষাক্ত জাল বিস্তৃত করার জঘন্য অপকর্মে জড়িত ছিল।
গ্রেফতারের পর ধৃত আসামিদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এরপর উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ মাদক ও জব্দকৃত আলামতসহ তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কঠোর ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করে সংশ্লিষ্ট বন্দর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে এসআরবি জানিয়েছে, যুবসমাজকে ধ্বংসকারী এই সিন্ডিকেটের শিকড় উপড়ে ফেলতে তাদের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন: