প্রতারণার শিকার দুই ব্যবসায়ীর সংবাদ সম্মেলন


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : মার্চ ৩০, ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ন / ১০০০
প্রতারণার শিকার  দুই ব্যবসায়ীর সংবাদ সম্মেলন

প্রতারণার শিকার দুই ব্যবসায়ীর সংবাদ সম্মেলন

 

 

 

মের্সাস সাধু এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারি প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাধুর প্রতারনার শিকার হয়ে দুই ব্যবসায়ী খুইয়েছেন ১৯ কোটি টাকা। ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন রতন ১৫ কোটি টাকা এবং মানিকগঞ্জের ব্যবসায়ী লিটন কুমার আইজের কাছ থেকে ২ কোটি ৪০ লাখ ।

 

টাকা পরিশোধ না করে উল্টো মামলা করে হয়রানির করছে ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন রতন ও লিটন কুমার আইজকে। মামলার হয়রানি থেকে বাঁচাতে ও জীবনের নিরাপত্তা এবং প্রতারক মাহাদেব সাহার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাহাবার এগ্রোর সত্তাধিকারি ইসমাইল হোসেন রতন ও রাধিকা ডাল মিল এন্ড ওয়েল কোম্পানীর মালিক লিটন কুমার আইজ।

 

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল হোসেন রতন দাবি করেন, প্ররতাক মাহদেব চন্দ্র সাধুর বিরুদ্ধে ঢাকা,নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, সাতক্ষিরা, পাবনা, শরীয়তপুর, মানিকগঞ্জেসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যবসায়ীক লেনদেনের নামে প্রতারনা , চেক ডিজঅনার, নারী ধর্ষন, অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১১৬টির বেশী মামলা রয়েছে । কিন্তু তারপর ভিন্ন কৌশলে ব্যবসার নামে প্রতারনা করে উল্টো ব্যবসায়ীদের নামে মামলা দিয়ে র্দীঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছে। মহাদেব চন্দ্র সাধু ও তার ভাগিনাসহ ১৫ -১৬ জনের একটি চক্র এই জালিয়াতির সাথে জড়িত রয়েছে।

 

লিখিত অভিযোগে ইসমাইল হোসেন রতন জানান, ২০২৫ সালে চট্রগামের জনৈক ব্যবসায়ী ওয়াহেদ মাহমুদের মাধ্যমে টেলিফোনে পরিচয় ঘটে প্রতারক মাহাদেব চন্দ্র সাধুর সাথে। মাহদেব চন্দ্র সাধু নিজেকে খুলনার ডুমুরিয়ার প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী ভাই ভাই স্টোরে সত্তাধিকারি জয়দেব সাহার নাম ব্যবহার করে মিথ্যা পরিচয় দেয়। পরে জয়দেব সাহা নামে আমার কাছ থেকে ভূট্টা নেয়ার মাধ্যমে লেনদেন শুরু করে। পরে বিভিন্ন কৌশলে এক থেকে দেড় বছরে প্রায় ১৫ কেটি টাকার পণ্য নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি চুয়াডাঙ্গা থানায় ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার হয়েছে কথিত জয়দেব সাহা। পরে ওই থানায় গিয়ে প্রথমে জানতে পারি সে জয়দেব সাহা নয় তার আসল নাম মাহাদেব চন্দ্র সাহা। শুধু আমার সাথে নয়, দেশের অরো অনেক ব্যবসায়ীর সাথে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মহাপ্রতারক মাহাদেব চন্দ্র সাহা।

 

এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২১ আগষ্ট প্রতারক মাহাদেব সাহাও তার সহযোগিদের আসামী করে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করি। মামলার পর মহাদেব সাহা ও তার সহযোগিরা আদালতে অপরাধ স্বীকার করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা পরিশোধ করবে মর্মে আদালত থেকে জামিননেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে মধ্যে টাকা পরিশোধ না করে উল্টো নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করে। ২০২৬ সালে ৬ ফেব্রুয়ারি মহাদেব সাহা ও তার ভাগিনা শুভ সাহা অন্যান্য সহযোগিদের নিয়ে অপহরনের নাটক সাজিয়ে সাতক্ষিরা থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় পুলিশ আমাকে (ইসমাইল হোসেন রতন) গ্রেফতার করে। ১০ দিন জেল খেটে ১৭ মার্চ জামিন পান। ১৯ মার্চ সাতক্ষিরা সদর থানায় আমার বিরুদ্ধে আরো একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে।

 

ইসমাইল অভিযোগ করেন, প্ররতার মাহাদেব চন্দ্র সাধু বর্তমানে টাকা যাতে আমাকে পরিশোধ করতে না হয় এজন্য আমাকে এবং আমার পরিবারকে চিরতরে মেরে ফেলার জন্য চক্রান্ত করছে। এ অবস্থায় নিজরে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতারক মাহদেব চন্দ্র সাহার দৃষ্টান্তমুলক শান্তি দাবি জানান প্রশাসনের কাছে। একই সাথে আমার (ইসমাইল) বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলাগুলোর সঠিক তদন্ত করে মামলাগুলো থেকে খালাস দেয়ার দাবি জানান তদন্তকারিদের কাছে।