
বন্দরে জামাইয়ের বিরুদ্ধে মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ বৃদ্ধা মায়ের
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ এনে জামাইয়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এক বৃদ্ধা মা। একই সঙ্গে মেয়ের কাছে গচ্ছিত থাকা স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাতের অভিযোগও করেছেন তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী সেতারা বেগম (৬৬) বন্দর উপজেলার মদনগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তিনি দাবি করেন, প্রায় ১৫ বছর আগে তাঁর মেয়ে ফাতেমা আক্তার নিলার সঙ্গে মো. পলাশ নামের এক ব্যক্তির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মধ্যে জীবনযাপন করতে হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
সেতারা বেগমের ভাষ্য, পারিবারিক অশান্তি ও নির্যাতনের কারণে তাঁর মেয়ে প্রায়ই বাবার বাড়িতে অবস্থান করতেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কয়েক বছর আগে পলাশ আরেকটি বিয়ে করেন এবং এরপর থেকে নিলার প্রতি অবহেলা আরও বাড়তে থাকে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের নভেম্বর মাসে পারিবারিক বিরোধের পর নিলা কিছুদিন মায়ের বাসায় ছিলেন। পরে স্বামী তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে ঘরেই কয়েক দিন চিকিৎসা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
সেতারা বেগম দাবি করেন, তাঁর মেয়ের কাছে গচ্ছিত থাকা প্রায় ৭ থেকে ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, স্বর্ণালঙ্কার ফেরত চাইলে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে এবং ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আমার মেয়ের জীবনে কোনো শান্তি ছিল না। আমি বিশ্বাস করি, সুষ্ঠু তদন্ত হলে সব সত্য বেরিয়ে আসবে।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, পরিবারটিতে দীর্ঘদিন ধরেই দাম্পত্য কলহ চলছিল বলে তাঁরা শুনেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পলাশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হওয়া জরুরি।
আপনার মতামত লিখুন :