
বন্দরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে স্থানীয় মেম্বারের ভাতিজা পরিচয়ে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে পাষ- স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। প্রভাবশালী মুকবুল মেম্বারের নামের ভয় দেখিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে চলা এই নির্যাতনের বিচার চেয়ে অবশেষে থানায় দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী নারী।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সোনাকান্দা এলাকার মীম আক্তারের সঙ্গে দুই বছর আগে একই এলাকার মোহাম্মদ মোহন মিয়ার ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে এক বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই স্বামী মোহন মিয়া যৌতুকের টাকার দাবিতে মীমকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।
লিখিত অভিযোগে মীম আক্তার উল্লেখ করেন, মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ইতিপূর্বে তাঁর মা অভিযুক্ত মোহন মিয়াকে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদান করেন। কিন্তু সেই টাকা নেওয়ার পরও তৃষ্ণা মেটেনি পাষ- স্বামীর। সে আবারও নতুন করে মোটা অংকের টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে।
গত ১৩ মে বৃধবার অভিযুক্ত মোহন মিয়া ও তাঁর মা জোৎসা বেগম আবারও যৌতুকের দাবিতে মীমের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করা হয়। এসময় মীম প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মুকবুল হোসেনের ভাতিজা পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আমরা মেম্বারের লোক, আমাগো কেউ কিচ্ছু করতে পারবে না।’ পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মীমকে উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনায় ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) সকালে ভুক্তভোগী মীম আক্তার বাদী হয়ে স্বামী মোহন মিয়া ও শাশুড়ি জোৎসা বেগমের নাম উল্লেখ করে বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মীম আক্তার বলেন, “একটি ছোট বাচ্চা থাকা সত্ত্বেও তারা আমার ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়েছে। মেম্বারের প্রভাব খাটিয়ে তারা এখন আমাকে খুনের হুমকি দিচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।
আপনার মতামত লিখুন :