
মর্গ্যান স্কুলের কমিটিতে জোড়া খুনের প্রধান আসামী জাহাঙ্গীর
নারায়ণগঞ্জের বাবুরাইলের আলোচিত জোড়া খুন মামলার প্রধান আসামী জাহাঙ্গীর বেপারীকে ঘিরে নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গত ৪ মে ২০২৬ তারিখে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত শহরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মর্গ্যান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের চার সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটিতে ‘অভিভাবক প্রতিনিধি’ হিসেবে স্থান পেয়েছেন এই জাহাঙ্গীর। একজন জোড়া খুন মামলার প্রধান আসামী কীভাবে স্বনামধন্য একটি বালিকা বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হলেন, তা নিয়ে পুরো শহরময় তীব্র তোলপাড় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণসহ নানা অপরাধে অভিযুক্ত এই জাহাঙ্গীরের কোনো বৈধ আয়ের উৎস নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের পরিবার ‘ক্লিন ইমেজ’-এর হলেও জাহাঙ্গীর মূলত এমপির পুত্র আবুল কাউসার আশা এবং কন্যা সামছুন নাহার বাঁধনের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। এখন স্কুলের কমিটিতে তার আনুষ্ঠানিক পদপ্রাপ্তি সাধারণ মানুষের সেই অভিযোগকে আরও উস্কে দিয়েছে।
এদিকে, একজন চিহ্নিত মামলার আসামীকে স্বনামধন্য স্কুলের কমিটিতে রাখার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল। তবে মর্গ্যান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের নবগঠিত এডহক কমিটির সভাপতি সামছুন নূর (যিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপির কন্যা) বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে দেখছেন। জাহাঙ্গীরের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিকে কমিটিতে রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জাহাঙ্গীরকে একপ্রকার ডিফেন্ড বা রক্ষা করার চেষ্টা করেন।
সামছুন নূর বলেন, “মামলা তো এরকম আমার ভাইয়ের নামেও আছে। মামলা তো অনেকের নামেই আছে। আমার ভাইও মার্ডার মামলার আসামী।” তবে সাবেক এমপি পুত্র হিসেবে রাজনৈতিক কারণে মামলা থাকা আর জাহাঙ্গীরের মতো স্থানীয় অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির অবস্থান কি এক? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জাহাঙ্গীরের অপরাধের বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এমপি কন্যা এবং নারায়ণগঞ্জের ক্লিন ইমেজের পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি যে কমিটির সভাপতি, সেখানে জোড়া খুন মামলার প্রধান আসামী অভিভাবক প্রতিনিধি হওয়াটা কতটুকু সমীচীন? এমন প্রশ্নের জবাবে সামছুন নূর উল্টো যুক্তি দিয়ে বলেন, “তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কিনা সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়; তার সন্তান এই স্কুলে পড়ে কিনা এবং তিনি এই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কিনা সেটাই হলো মূল বিষয়।” নিজের যুক্তির পক্ষে তিনি আরও বলেন, “এই হিসেব করতে গেলে তো বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না। কারণ তাঁর বিরুদ্ধেও তো মামলা ছিল।”
একটি স্বনামধন্য বালিকা বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডিতে জোড়া খুন মামলার ১ নম্বর আসামীকে বসানো এবং তাকে আড়াল করতে খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রীর উদাহরণ টানার এই ঘটনায় সচেতন মহল মনে করছেন, রাজনৈতিক আশ্রয় ও প্রশাসনের শতভাগ নিরপেক্ষ তদন্তের অভাবেই এই ধরণের অপরাধীরা সমাজে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো পবিত্র জায়গাকেও কলুষিত করছে।
আপনার মতামত লিখুন :