বন্দরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশীর হামলায় রক্তাক্ত পরিবার


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : মে ২২, ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ন / ১০০০
বন্দরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশীর হামলায় রক্তাক্ত পরিবার

বন্দরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশীর হামলায় রক্তাক্ত পরিবার

 

ভিটেমাটি আর রাস্তার দখল নিয়ে মানুষের জিঘাংসা কতটা ভয়ংকর হতে পারে, তার এক নৃশংস উদাহরণ দেখল নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার মিনারবাড়ী এলাকা। সামান্য জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশীর হামলায় রক্তাক্ত হয়েছে একটি পুরো পরিবার। বাদ যায়নি ১১ বছরের শিশু কিংবা ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধও।

যেভাবে শুরু হলো এই তাণ্ডব

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মিনারবাড়ী এলাকার মোসাঃ তাসলিমা (৫৫) ও তার পরিবারের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তায় জোরপূর্বক দেওয়াল তুলে দখলের চেষ্টা করছিল প্রতিবেশী মো: সাকিল, সগর ও নুরুদ্দিনসহ একটি চক্র। শুক্রবার (২২ মে) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বিবাদীরা জোরপূর্বক রাস্তাটি দখল করতে গেলে বাধা দেন তাসলিমা। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে হামলাকারীরা।

রক্তাক্ত বৃদ্ধ ও অসহায় মা

প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগকারী তাসলিমা জানান, বাধা দেওয়ার সাথে সাথেই তাকে মারধর শুরু করে সগর নামের এক যুবক। তার মুখে গুরুতর আঘাত করা হয়। স্ত্রীকে বাঁচাতে স্বামী আমান উল্লাহ (৬০) এবং ছেলে তাইজুল ইসলাম এগিয়ে এলে তাদের ওপরও চলে অমানুষিক নির্যাতন। পাষণ্ড হামলাকারীরা বৃদ্ধ আমান উল্লাহর পেটে দেশীয় ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

১১ বছরের শিশুকে পুকুরে ফেলে হত্যার চেষ্টা

এই পাশবিকতার সব সীমা ছাড়িয়ে যায় যখন হামলাকারীরা তাসলিমার ১১ বছরের নিষ্পাপ নাতি আপন-কে ধরে বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়। শিশুটিকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় তারা। উপস্থিত লোকজনের তৎপরতায় অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচে শিশুটি, তবে সেই ট্রমা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি সে।

আতঙ্কে কাটছে রাত, বিচারের আশায় পরিবার

ভুক্তভোগী তাসলিমা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন,

“আমরা এখন নিজেদের বাড়িতে থাকতেও ভয় পাচ্ছি। ওরা আমাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমার স্বামীকে ওরা পেটে ছুরি চালিয়েছে, আমার ছোট নাতিটাকে পানিতে ফেলে মারতে চেয়েছিল। আমরা এর বিচার চাই।”

আইনি পদক্ষেপ

এই ঘটনায় মোসাঃ তাসলিমা বাদী হয়ে বন্দর থানায় ৫ জনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই নক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

একটি সাজানো সংসার কি এভাবেই প্রতিবেশীর হিংসার বলি হবে? প্রশ্ন এখন মিনারবাড়ী এলাকার প্রতিটি বিবেকবান মানুষের কাছে।