
গোগনগরে গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধে মানববন্ধন, তাজেক প্রধান স্কুল খুল দেওয়ার দাবি
নারায়ণগঞ্জ শহরতলীর গোগনগরস্থ তাজেক প্রধান উচ্চ বিদ্যালয়ে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন ও মব সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল। মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারাবলেন, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত তাজেক প্রধান উচ্চ বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. মোঃ সালাহউদ্দিন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের এক দারোয়ানের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠার পর একটি মহল ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে। এর ফলে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয় বলে তারা দাবি করেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযোগের পর অভিযুক্ত দারোয়ানকে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করা হয়। তবে এরপরও বিক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হামলা ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমাদের বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বিদ্যালয়কে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা আমরা মেনে নিতে পারি না।”অভিভাবকরা বলেন, “কোনো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার আইনের মাধ্যমে হওয়া উচিত। গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর কিংবা মব সৃষ্টির চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, গুজব রটনাকারীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত তাজেক প্রধান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
আপনার মতামত লিখুন :