আমার কোনো চিন্তা নাই, এবার একটা বাবা পাইছি


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : জুলাই ৪, ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ন / ১০০০
আমার কোনো চিন্তা নাই, এবার একটা বাবা পাইছি

আমার কোনো চিন্তা নাই, এবার একটা বাবা পাইছি

 

 

নারায়ণগঞ্জের বন্দরের পুরান বন্দর চৌধুরী বাড়ি এলাকায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী দম্পতি নাজমা ও শফিকুল এখন চরম বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বন্দর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে মাদক নিয়ন্ত্রণের কঠোর আলটিমেটাম দেওয়া হলেও ‘সর্ষের মধ্যেই ভূত’ থাকার কারণে এই চক্রটিকে থামানো যাচ্ছে না বলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চিহ্নিত সন্ত্রাসী শেখ সিফাতকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এলাকায় নিজেদের মাদকের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে চায় এই চতুর নাজমা দম্পতি। একই সাথে পুলিশেরই এক প্রভাবশালী কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের মাসোহারার বিনিময়ে এই মাদক চক্রকে সরাসরি শেল্টার দিচ্ছেন, যার কারণে নাজমার বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না পুলিশ। সন্ত্রাসী সিফাত ও নাজমা একই সুত্রে গাথা। তারা উভয়ই অপরাধী।

 

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, পুরান বন্দর চৌধুরী বাড়ি খালপাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একচ্ছত্র মাদক ব্যবসা, নারী ব্যবসা ও সুদের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল মাদক সম্রাজ্ঞী নাজমা ও তার স্বামী শফিকুল। তাদের এসব অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী যখন ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করে, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হাজির হয় সন্ত্রাসী শেখ সিফাত। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি শেখ সিফাত প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে গোপনে নাজমার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। আর চতুর নাজমা দম্পতি এই সিফাতের রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসী শক্তিকে নিজেদের ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে এলাকায় মাদক ও হেরোইনের ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালাতে শুরু করে।

 

পাশাপাশি তারা নারীদের দিয়ে ‘হানি ট্র্যাপ’ (ব্ল্যাকমেইলিং) চক্র ও চড়া সুদের ব্যবসাও গড়ে তোলে। কেউ সুদের টাকা দিতে দেরি করলে সন্ত্রাসী সিফাতের ভয় দেখিয়ে তা আদায় করত নাজমা।

 

 

নাজমার এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, তাদের সম্পর্ক এতটাই গভীর ছিল যে, শেখ সিফাত নাজমাকে ‘মা’ বলে ডাকত। আর নাজমাও বলত, “আমার বাবা (ছেলে) নেই, এবার একটা বাবা পাইছি। আমার আর কোনো চিন্তা নাই।” নাজমার লাখ লাখ টাকার সুদের ব্যবসা ও বড় অঙ্কের পাওনা টাকা সিফাত নিজেই সন্ত্রাসী কায়দায় বিচার বসিয়ে আদায় করে দিত। প্রায়শই নাজমার বাড়িতে রাত্রিযাপন করত সিফাত। তবে এই ‘মধুর’ সম্পর্ক বেশিদিন টেকেনি। অবৈধ টাকার ভাগবাটোয়ারা এবং অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝি নিয়ে সম্প্রতি দুজনের মধ্যে চরম দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সিফাত দলবল নিয়ে নাজমার বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এরপরই ‘মা-ছেলে’র সম্পর্ক রূপ নেয় চরম শত্রুতায়।

 

বর্তমানে সিফাতের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছে নাজমা। সিফাতকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যেমন কলকাঠি নাড়া হচ্ছে, তেমনি নিজের পিঠ বাঁচাতে ও অপরাধের সাম্রাজ্য ধরে রাখতে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে ফেলেছে নাজমা।

 

অভিযোগ রয়েছে, ওই কর্মকর্তার অনৈতিক সুবিধার কারণেই বর্তমানে নাজমার বিরুদ্ধে কেউ থানায় অভিযোগ করতে পারছে না।

 

 

এদিকে সন্ত্রাসী সিফাতকে ঢাল বানিয়ে এবং পুলিশের এক কর্মকর্তার প্রকাশ্য নেপথ্য সহায়তায় নাজমা-শফিকুল দম্পতির এই বেপরোয়া কাণ্ডে চৌধুরী বাড়ি এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, খোদ ওসির আলটিমেটামের পরও কীভাবে এই মাদক দম্পতি বহাল তবিয়তে তাদের অপরাধের সাম্রাজ্য চালাচ্ছে? পুলিশ কেন একজন অপরাধীর পক্ষে অবস্থান নেয়। চৌধুরীবাড়ির বিষফোড়া এখন এই নাজমা। সন্ত্রাসী সিফাত আর নাজমা একই সুত্রেগাথা। এই ভাইরাসদের কারনে অনেকে ভয়ে মূখ খুলতে চায় না। এদের দ্রুত গ্রেফতার করুন।

 

এই বিষয়ে বন্দর থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, অপরাধী বা মাদকের সাথে কোনো আপস নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত এই মাদক চক্র ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো পুলিশ কর্মকর্তার জড়িত থাকার বা মাসোহারা নেওয়ার প্রমাণ মিললেও কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।