দেওভোগ মাদ্রাসায় শিক্ষককে বহিষ্কার নিয়ে উত্তেজনা, ম্যানেজিং কমিটি অবরুদ্ধ  


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : জুলাই ৫, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ন / ১০০০
দেওভোগ মাদ্রাসায় শিক্ষককে বহিষ্কার নিয়ে উত্তেজনা, ম্যানেজিং কমিটি অবরুদ্ধ  

দেওভোগ মাদ্রাসায় শিক্ষককে বহিষ্কার নিয়ে উত্তেজনা, ম্যানেজিং কমিটি অবরুদ্ধ

 

নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক ও জমিয়ত নেতা মুফতি হারুন অর রশিদকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আবু তাহের জিহাদী, ম্যানেজিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ খোকনসহ কয়েকজনকে মাদ্রাসার ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

 

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা সেখানে প্রবেশ করলে মুফতি হারুন অর রশিদের অনুসারী ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন তাদের আটকে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শাহ আব্দুল হালিম জানান, শিক্ষক মুফতি হারুন অর রশিদকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর তার নির্দেশে অনুসারীরা ছাত্রদের উস্কানিমূলক বক্তব্য পরিস্থিতি ক্ষুব্ধ করে তোলে। পরে তারা প্রিন্সিপাল, সাধারণ সম্পাদকসহ ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মাদ্রাসার ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখে।

 

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা পৌঁছালেও সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

 

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের নিরাপদে মুক্ত করা না হলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে উঠতে পারে এবং যেকোনো সময় স্থানীয়দের সাথে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বড় ধরণের সংঘর্ষ হতে পারে।

 

মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসায় ইসলামী ছাত্র শিবিরের একটি কমিটি দেওয়ার গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। ছাত্রদের একটি পক্ষকে সমর্থন করা ও উস্কানি দেবার অভিযোগে মুফতি হারুন অর রশিদকে অব্যাহতি দেবার কথা জানা যায়। এ নিয়ে গত কʼদিন ধরে মাদ্রাসার ছাত্র ও স্থানীয়রা পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থানে ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও এ নিয়ে লেখালেখি হয়।

 

হারুন অর রশিদ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নারায়ণগঞ্জ জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগর হেফাজত ইসলামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

 

এদিকে মাদ্রাসায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানান সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও‌সি) সাজেদুর রহমান।