বন্দরের কাইকারটেক -নবীগঞ্জ ৩ কিলোঃ রোডের বেহাল দশা! দেখার কেউ নেই


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : জুলাই ১০, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ন / ১০০০
বন্দরের কাইকারটেক -নবীগঞ্জ ৩ কিলোঃ রোডের বেহাল দশা! দেখার কেউ নেই

বন্দরের কাইকারটেক -নবীগঞ্জ ৩ কিলোঃ রোডের বেহাল দশা! দেখার কেউ নেই

 

নারায়ণগঞ্জ বন্দর সদর ইউনিয়নের কাইকারটেক থেকে নবীগঞ্জ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হতে পারে এটি কোনো পরিত্যক্ত পথ, কোনো প্রধান সড়ক নয়। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন যানবাহন ও পথচারী উভয়ের জন্যই এক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পিচের রাস্তা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। পুরো সড়ক জুড়ে রয়েছে শত শত বড় ও গভীর গর্ত। স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো ছোটখাটো পুকুরে পরিণত হয়েছে। সড়কের এই ভগ্নদশা যানবাহন চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এ বিষয়ে স্থানীয় সাইদুল খান বলেন, বন্দরের নবীগঞ্জ-কাইকারটেক রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে স্থানীয় মানুষদের যে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তা সত্যিই অত্যন্ত দুঃখজনক। রাস্তা যখন খানাখন্দে ভরে যায়, তখন তা সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য সত্যিই এক “মরণ ফাঁদে” পরিণত হয়।

পথচারী আশাবউদ্দিন বলেন বর্ষাকালে এই ধরনের রাস্তার অবস্থা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কাদা-পানি জমে গর্তগুলো আড়াল হয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে, যা যাত্রী ও চালক উভয়ের জন্যই চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ মাইজভান্ডারি বলেন রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবত বেহাল অবস্থা। যানবাহন চলাচল দূরের কথা সামান্য বৃষ্টি হলেই মানুষের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়ে। এই এলাকার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করতে এবং বড় কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে নারায়নগঞ্জ -৫ আসনের সংসদ সদস্য এড.আবুল কালামসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজর দেওয়া এবং রাস্তাটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

একজন মোটরসাইকেল চালক কাদা-জল ভর্তি গর্ত এড়িয়ে সাবধানে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছেন। ইজিবাইক, রিকশা বা ভ্যানের মতো ছোট যানবাহনগুলোর অবস্থা আরও করুণ। এই রাস্তায় চলতে গিয়ে প্রায়শই যানবাহন বিকল হয়ে পড়ছে এবং যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। কাদা-মাটি ও জলের ছিটে লেগে পথচারীদের জামাকাপড় নষ্ট হওয়া নিত্যদিনের ঘটনা।

বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়রা চরম বিপাকে পড়েন। রাতে এই সড়ক দিয়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এই বেহাল দশা চললেও মেরামতের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষাকালে এই দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।

নবীগঞ্জ-কাইকারটেক সড়কটির বর্তমান বেহাল অবস্থা সত্যিই চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বর্তমানে এটি যেন এক “মরণফাঁদে” পরিণত হয়েছে।

খানাখন্দ ও গর্ত: সড়কের পিচ-পাথর উঠে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় শুধু ইটের খোয়া ও মাটি বের হয়ে আছে, যার ফলে একটু বৃষ্টি হলেই সেখানে পানি জমে কাদায় পরিণত হচ্ছে।

দুর্ঘটনার ঝুঁকি: খানাখন্দের কারণে প্রতিদিন সিএনজি, ইজি বাইক, মোটরসাইকেল এবং ছোট ছোট মালবাহী যানবাহন উল্টে গিয়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতের বেলা এই ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

লাখো মানুষের ভোগান্তি: বন্দর ও সোনারগাঁ উপজেলার সংযোগকারী এই প্রধান সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকুরিজীবী এবং ঐতিহ্যবাহী কাইকারটেক হাটে আসা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।

বিকল্পের অভাব: এই এলাকার মানুষের যাতায়াতের জন্য আর কোনো সহজ বা ভালো বিকল্প রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়েই চরম ভোগান্তি মাথায় নিয়ে এই সড়কটি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

সম্প্রতি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়কটির কিছু কিছু অংশে কাজের তদারকি বা পরিদর্শন দেখা গেলেও, এলাকাবাসী স্থায়ী ও দ্রুত সম্পূর্ণ সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত উদ্যোগ না নেয়, তবে যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

তথ্য সূত্রে প্রকাশ, এই সড়কটিকে স্থায়ী রূপ দিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) একটি বড় প্রকল্প হাতে নেয়।

মূল প্রকল্প: লাঙ্গলবন্দ থেকে কাইকারটেক হয়ে নবীগঞ্জ পর্যন্ত সড়কটি প্রশস্তকরণের কাজ।

বরাদ্দ ও ব্যয়: এই পুরো অঞ্চলের (লাঙ্গলবন্দ আধুনিক পর্যটন নগরী ও এর সংযোগ সড়ক) উন্নয়নের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ১২ হাজার ৭৪ লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি মাস্টার প্ল্যানসহ প্রায় ১,১০০ কোটি টাকার প্রাক্কলিত প্রকল্প (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হয়।

ভূমি অধিগ্রহণ: এই সড়কটি আরও চওড়া করার জন্য প্রায় ২১.৮/৩ একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ছোটখাটো সংস্কার এর বাইরে বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে সড়কটির সাথে সংযুক্ত বিভিন্ন গ্রামীণ রাস্তা বা এই সড়কের কিছু অংশের পুনঃনির্মাণ ও প্রশস্তকরণের জন্য ছোট আকারে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

নবীগঞ্জ-কাইকারটেক সড়ক থেকে নির্দিষ্ট কিছু এলাকার সংযোগ রাস্তা বা মাটির রাস্তা সংস্কারে কয়েক দফায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা করে এবং গম/খাদ্য শস্য বরাদ্দ (যেমন ৬ মেঃ টন) দেওয়া হয়েছিল।

বর্তমান বাস্তবতা: কাগজে-কলমে এত বড় বরাদ্দ ও পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও, বর্তমানে কাজের সঠিক বাস্তবায়ন বা নিয়মিত তদারকির অভাবে এই ৩ কিলোমিটার মূল সড়কটি এখন খানাখন্দে ভরা। ফলে স্থানীয় মানুষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং দ্রুত একটি টেকসই সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন

জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কাইকারটেক থেকে নবীগঞ্জ ৩ কিলোমিটার রোডটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সাংসদ এড আবুল কালাম, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে ভুক্তভোগীরা।