বন্দরে কাটিং করে বিক্রির সময় কোটি টাকা মূল্যের চোরাই জ্রেজার জব্দ,পুলিশের ভুমিকা রহস্যময়


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৭, ২০২৫, ৮:৫৬ অপরাহ্ন / ১০০০
বন্দরে কাটিং করে বিক্রির সময় কোটি টাকা মূল্যের চোরাই জ্রেজার জব্দ,পুলিশের ভুমিকা রহস্যময়

 

নারায়নগঞ্জ নিউজ এক্সপ্রেস :
নারায়ণগঞ্জ বন্দরে রাতের আধারে চোরাই ড্রেজার কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে অবৈধ ডকইয়ার্ড মালিক ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে।এ ঘটনায় পুলিশের সহযোগিতা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের মোহনপুর নদীর পাড়ে অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা মাজহারুলের ডকইয়ার্ড থেকে কোটি টাকা মূল্যের একটি চোরাই কাটিং ড্রেজার জব্দ করেছে থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাতে পুলিশ ডকইয়ার্ডে গিয়ে ড্রেজারটি জব্ধ করে।এ ঘটনায় ২ জনকে আটক করলেও পরে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে আটকের বিষয় অস্বীকার করে ড্রেজারের কোনো মালিক পাওয়া যায়নি দাবি করা হয়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ একটি চক্র কোটি টাকা মূল্যের ওই ড্রেজারটি চুরি করে। গভীর রাতে মাজহারুলের ডকইয়ার্ডে এনে কাটিং করে বিক্রির প্রস্তুতি নেয়।বিষয়টি জানাজানি হলে থানা পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী।পরে পুলিশ গিয়ে ড্রেজারটি জব্দ করে।

জব্দকারী অফিসার এসআই জাকির হোসেন বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রেজারটি জব্দ করি।তাতক্ষনিক মালিক না পাওয়ায় ডকইয়ার্ড মালিক মাজহারুলের জিম্মায় রেখে আসি।

এ ব্যপারে ডকইয়ার্ড মালিক মাজহারুল জানান, গত বুধবার রাতে ৫/৬ জন লোক বিএনপির নেতা পরিচয়ে ২৪ ইঞ্চি ডায়ার একটি কাটিং ড্রেজার তার ডকইয়ার্ডে নিয়ে আসে।তাদেরকে সে চিনে না।পরদিন বৃহস্পতিবার তারা ট্রেজারের বিভিন্ন অংশ কাটিং করার সময় পুলিশ আসলে তারা পালিয়ে যায়। পুলিশ ধাওয়া করেও তাদের ধরতে পারেনি। ড্রেজারটি জব্দ তালিকা করে যায়।ডকইয়ার্ডের বৈধতার বিষয়ে জানতে চাইলে মাজহারুল কোন কাগজপত্র দেখাতে বা সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.লিয়াকত আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, একটি চোরাই ড্রেজার কাটিং করার সংবাদ পেয়ে পুলিশ গিয়ে ড্রেজারটি জব্ধ করে। তবে ড্রেজারের মালিককে এখনো পাওয়া যায়নি। মালিকের সন্ধান করা হচ্ছে। কিভাবে বা কোথা থেকে ড্রেজারটি এখানে আনা হলো তা তদন্ত চলছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি।তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ ডকইয়ার্ড মালিক। মাজহারুল অনেক বছর ধরে চোরাই বিভিন্ন রকম নৌযান কেটে বিক্রি করে আসছে।নদীপথে তার বিশাল একটা সিন্ডিকেট রয়েছে। এমনকি প্রশাসনের বিভিন্ন অসাধু অফিসারদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। যার কারণে সে দীর্ঘদিন ধরে বীরদর্পে চোরাই জাহাজ ও লোহার ব্যাবসা করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছে মাজহারুল।