
নারায়নগঞ্জ নিউজ এক্সপ্রেস :
নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করিয়ে যাত্রীকে অজ্ঞান করে টাকা ও মালামাল চুরির ঘটনায় বন্দর থানা পুলিশ পাঁচ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সঙ্গে ঘটনার সময় ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে রাজধানীর ডিএমপির যাত্রাবাড়ী থানাধীন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মোঃ সুমন শরীফ (৪০), সাদ্দাম মিজি (৩২), মোঃ ইয়াসিন হোসেন ওরফে রবিউল (২৫), মোঃ রোকন গাজী (২৫) এবং সজিব মিয়া (২৫)। এ সময় ঘটনার কাজে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটি আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেয়।
পরে জানা যায়, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দুলাল হোসেন (৫৩) বৃহস্পতিবার সকালে বন্দর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চুরির মামলা দায়ের করেন। মামলার পর বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিনের দিকনির্দেশনায় একটি চৌকস আভিযানিক দল তদন্ত ও অভিযান শুরু করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার ২৪ ডিসেম্বর বন্দর থানাধীন কল্যান্দী এলাকার নিজ বাসা থেকে দুলাল হোসেন ব্যবসায়িক কাজে নগদ ৮৬ হাজার টাকা ও হিসাবের খাতা বহন করে কল্যান্দী স্ট্যান্ড থেকে একটি সিএনজিতে ওঠেন। তিনি ডাচ বাংলা ব্যাংক বন্দর শাখায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। গন্তব্যে পৌঁছেও সিএনজি চালক গাড়ি না থামিয়ে ইউটার্ন নিয়ে বন্দর বাজার এলাকার আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের সামনে চলে যায়। চালকের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে ভুক্তভোগী বারবার গাড়ি থামাতে বললেও চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাতে থাকে।
একপর্যায়ে সিএনজি চালক ও তার সহযোগীরা দুলাল হোসেনকে নেশাজাতীয় কোনো দ্রব্য সেবন করিয়ে অজ্ঞান করে অজ্ঞাত স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা নগদ ৮৬ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়িক হিসাবের খাতা সম্বলিত দুটি টিস্যু কাপড়ের ব্যাগ চুরি করে নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে অদ্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বন্দর থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।
আপনার মতামত লিখুন :