রূপগঞ্জে প্রবাসী যুবককে কুপিয়ে হত্যা, আহত-১, হত্যাকারীদের বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : মার্চ ৩১, ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ন / ১০০০
রূপগঞ্জে প্রবাসী যুবককে কুপিয়ে হত্যা, আহত-১, হত্যাকারীদের বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ

রূপগঞ্জে প্রবাসী যুবককে কুপিয়ে হত্যা, আহত-১, হত্যাকারীদের বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ

 

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তাওড়া এলাকায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মাসুম মিয়া (২২) নামের এক দুবাই প্রবাসী যুবককে এলোপাথারিভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় রমজান মিয়া নামে তার এক বন্ধুর হাত এবং পায়ের রগ কেটে তাকেও হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। এ ঘটনায় হত্যাকারীদের বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পুড়ো এলাকা এখন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

 

একটি অপরাধের বিচারের অপক্ষোয় যেনো আরেকটি অপরাধের জন্ম না হয়, তাই অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের স্বচ্ছতার দাবি, নিহতের স্বজন সহ স্থানীয়দের।

 

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, দুই বছর পর দুবাই থেকে দেশে আসেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভোলাবো ইউনিয়নের তাওড়া পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে মাছুম মিয়া। তার মা নার্গিস বেগম তিনিও মালয়েশিয়া প্রবাসী। মাছুম মিয়া প্রবাসে যাওয়ার আগে থেকেই একই এলাকার রাসেল মিয়ার সাথে পাওনা টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করেই মাছুম মিয়া ও তার বন্ধুর উপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নি সংযোগ করে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

 

নিহতের স্বজন সহ স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাতে মাসুম মিয়া ও তার বন্ধু রমজান মিয়া মোটরসাইকেলে করে নরসিংদীর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তার নিজ বাড়ির সামনে ঘোড়াশাল-পাঁচদোনা সড়কের পাশে প্রতিপক্ষ রাসেল মিয়া, মাহবুব মিয়া, উজ্জল ও তুষার মিয়াসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মাসুম মিয়া ও তার বন্ধু রমজান মিয়ার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় মাসুম মিয়াকে চাপাতি ও ছুরি দিয়ে এলোপাথা এভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখন করা হয়। তার বন্ধু রমজান মিয়ার হাত এবং পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়।

 

পরে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে হামলাকারিয়া পালিয়ে যায়। মুমূর্ষ অবস্থায় নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মাসুম মিয়া মারা যান এবং রমজান মিয়াকে মুমূর্ষ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, অভিযুক্তরা মাদকাসক্ত। এছাড়া সোহেল হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। এলাকায় একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে আসলেও তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস নেই। যার কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তারা ঘটিয়েছে। দ্রুত আসামীদের গ্রেফতারের দাবি জানান নিহতের স্বজন সহ স্থানীয়রা।

 

রূপগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মোক্তার হোসেন জানান, তাওড়া এলাকায় একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এমন খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।