
এনসিপির দরজায় গিয়াস ও জাকির খান, তৈমূরের নাকচ!
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর দরজায় কড়া নাড়ছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বিতর্কিত নেশাখোর জাকির খান। দুজনকেই আগামী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সমর্থনের আশ্বাস দিয়ে এনসিপিতে যোগদান করানোর চেষ্টা করছে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। কিন্তু গিয়াস উদ্দীন ও জাকির খান দুজনই দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন ১১ দল থেকে মেয়র পদে সমর্থন দিলেই কেবল তারা এনসিপিতে যোগদান করবেন, অন্যথায় শুধুমাত্র এনসিপির সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়াতে আগ্রহী নন।
তবে একইভাবে বিএনপির আরেক বহিষ্কৃত নেতা তৈমূর আলম খন্দকারকে এই প্রস্তাব দিলেও তিনি এনসিপিকে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বিএনপি থেকে কিংবা স্বতন্ত্র থেকে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন, তবুও তিনি অন্য কোনো দলে যোগদান করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করতে নারাজ। আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এনসিপি বৃহত্তর আকারে জাগানিয়া দিতে চাচ্ছেন। যে কারনে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনকে তারা টার্গেট করেছেন। গিয়াস বা তৈমূর রাজি না হলে শেষতক এনসিপি বিতর্কিত জাকির খানের উপর ভর করবে। বেশকটি ঘনিষ্ঠ সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে জাকির খানের। ৫ আগস্টের পর কারাগার থেকে জাকির খান মুক্তি পেলেও বিএনপিতে তার কোনো অবস্থান নেই। ভবিষতেও বিতর্কিত এই ব্যক্তিকে বিএনপির কোনো কমিটিতে রাখতে নারাজ কেন্দ্রীয় বিএনপি। বিষয়টি জাকির খানকে বুঝানোর চেষ্টা করছেন ইসহাক সরকার। আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জাকির খানকে এনসিপির সমর্থনে মেয়র পদে প্রার্থী করার চেষ্টা করবেন ইসহাক সরকার। তবে জাকির খান জামায়াত ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সমর্থন পেলে এনসিপিতে যোগদান করতে রাজি, অন্যথায় তিনি এনসিপিতে যাবেন না।
অন্যদিকে ভিন্ন সূত্র বলছে, একই প্রস্তাব এসেছে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীনের দিকেও। যদিও গিয়াসউদ্দীন এনসিপিকে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। তিনি আভাস দিয়েছেন আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে তিনি অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী। সেক্ষেত্রে তিনি জামাত এনসিপির নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সমর্থিত প্রার্থী হতে বেশি আগ্রহী। তবে শুধু এনসিপির সমর্থনে তিনি প্রার্থী হবেন না এটাও খুব বেশি অস্বীকার করেননি। জামাত ও এনসিপির জোটের প্রার্থী হলে তিনি এখনই যোগদান করতে রাজি রয়েছেন।
এ ছাড়াও ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১(রূপগঞ্জ) আসন থেকে তৈমূর আলম খন্দকারকে প্রার্থী করতে চেয়েছিলো জামাত ও এনসিপি জোট। কিন্তু তৈমূর আলম খন্দকার রাজি হননি। তিনি বিএনপিতে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন। এমনিতেই ২০২২ সালে বিএনপি থেকে বহিষ্কার ও ২০২৩ সালে তৃণমুল বিএনপিতে যোগদান ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘটনায় বিতর্কে পড়েছেন তৈমূর আলম খন্দকার। যে কারনে তিনি নতুন করে বিতর্কে জড়াতে চাননি। ফলে তিনি গত জাতীয় নির্বাচনে কোনো দলের হয়েই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। নতুন করে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও তৈমূর আলমকে মেয়র পদে প্রার্থী করতে জামায়াত ও এনসিপি জোট চেষ্টা করে আসছিল। কিন্তু তৈমূর আলম জামাত ও এনসিপি জোটকে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ভবিষতে রাজনীতি করলে বিএনপির হয়েই করবেন, নতুবা বিএনপির সমর্থক হিসেবে আমৃত্যু থাকবেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :