সোনারগাঁয়ে অবৈধ ৪ চুনা কারখানা গুঁড়িয়ে দিলো তিতাস 


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : জুলাই ৬, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ন / ১০০০
সোনারগাঁয়ে অবৈধ ৪ চুনা কারখানা গুঁড়িয়ে দিলো তিতাস 

সোনারগাঁয়ে অবৈধ ৪ চুনা কারখানা গুঁড়িয়ে দিলো তিতাস

 

 

 

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চারটি চুনা কারখানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। তবে এই অভিযান যতটা না স্বস্তির, তার চেয়ে বেশি উসকে দিয়েছে দীর্ঘদিনের জমে থাকা প্রশ্ন—এতদিন কোথায় ছিল কর্তৃপক্ষ?

 

রবিবার (৫ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে পিরোজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চারটি চুনা কারখানা এক্সকাভেটর দিয়ে ধ্বংস করা হয় এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হান এবং তিতাস গ্যাসের সোনারগাঁ জোনের ম্যানেজার শবিউল আওয়াল।

 

কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চারটি কারখানা ধ্বংস করলেই কি অবৈধ গ্যাস সংযোগের মহামারি বন্ধ হয়ে যাবে? সোনারগাঁজুড়ে ছড়িয়ে থাকা শত শত, এমনকি হাজারো অবৈধ সংযোগ বছরের পর বছর কীভাবে চালু থাকে—এই প্রশ্নের উত্তর কারো কাছে নেই।

 

বাস্তবতা হলো, অবৈধ গ্যাস সংযোগ কোনো হঠাৎ গজিয়ে ওঠা সমস্যা নয়; এটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি সংগঠিত চুরি চক্রের ফল। আর এই চক্র টিকে আছে প্রভাবশালী মহল ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার নীরব মদদে—এমন অভিযোগ এখন প্রকাশ্য।

 

স্থানীয়রা বলছেন, নিয়মিত ‘ম্যানেজ’ করেই চলছে গ্যাস চুরির মহোৎসব। মাসিক চাঁদার বিনিময়ে অবৈধ সংযোগ যেন বৈধতার ছদ্মবেশে টিকে থাকে। ফলে মাঝে মাঝে এ ধরনের ‘অভিযান’ জনগণের কাছে শুধুই লোক দেখানো পদক্ষেপ বলে মনে হয়।

 

প্রশ্ন উঠেছে—যে সংযোগগুলো আজ অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো, সেগুলো এতদিন কার ছত্রছায়ায় চলছিল? কারা এর পেছনে ছিল? কেন আগে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি কারখানা উচ্ছেদ করে সমস্যার মূল সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন গোড়ায় হাত দেওয়া—দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

 

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে। তবে জনগণের প্রত্যাশা—এই অভিযান যেন কেবল প্রদর্শনী না হয়ে বাস্তব পরিবর্তনের সূচনা হয়।

 

সোনারগাঁবাসীর এখন একটাই দাবি—শুধু ছোট মাছ নয়, গ্যাস চুরির পেছনের বড় রাঘববোয়ালদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় এই উচ্ছেদ অভিযান হবে ক্ষণস্থায়ী, আর অবৈধ গ্যাস সংযোগের আগুন জ্বলতেই থাকবে আড়ালে।