
প্রায় দুই বছর পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সুমা আক্তার হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ছোট শালির সঙ্গে পরকীয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে স্ত্রীকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন স্বামী শহীদুল্লাহ। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এই তথ্য স্বীকার করেছেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা শহীদুল্লাহকে বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে ফতুল্লা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মোস্তফা কামাল রাশেদ জানান, শহীদুল্লাহ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে স্বীকার করেছেন, ছোট শালির সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের কারণে পরিকল্পনা করে তিনি স্ত্রীকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন।
২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর ফতুল্লার কাঠেরপুল কুতুবআইল এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ওই দিন আনিসুর রহমানের টিনশেড বাড়ি থেকে সুমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ এবং ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। পরদিন নিহতের মা সাজেদা খাতুন বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
তদন্তের শুরুতে সন্দেহভাজন হিসেবে সুমা আক্তারের ছোট বোন সোহানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ আদালতে পাঠায়। তবে পরে ২০২৪ সালের আগস্টে মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তর করা হলে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। সোহানাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা নতুন তথ্য পান। প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে স্বামী শহীদুল্লাহর সম্পৃক্ততা বেরিয়ে আসে।
এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর সোহানাকে আবারও আদালতে জবানবন্দি দিতে পাঠানো হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৫ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটায় অভিযান চালিয়ে শহীদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে জবানবন্দি দিয়ে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :