নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দিতার আভাস জামায়াতের


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫, ৮:৫২ অপরাহ্ন / ১০০০
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দিতার আভাস জামায়াতের

নারায়নগঞ্জ নিউজ এক্সপ্রেস :
আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। এই আসনে জামায়াতে ইসলামী তাদের হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক মহানগর আমীর মাওলানা মইনুদ্দিন আহমাদ-এর নাম ঘোষণা করে নির্বাচনী মাঠে জোরালো অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন লড়াইয়ে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে এক ধরনের ‘হযবরল’ অবস্থা বিরাজ করছে।

​নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকা বেশ দীর্ঘ। এই দৌড়ে রয়েছেন:​ মডেল গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুদুজ্জামান মাসুদ, প্রাইম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবু জাফর আহমেদ বাবুল,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খাঁন এবং সাবেক সংসদ সদস্য ​আলহাজ্ব আবুল কালাম তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং দলীয় মনোনয়ন দাবি করছেন। তবে কেন্দ্র থেকে এখন পর্যন্ত একক কোনো প্রার্থীর বিষয়ে স্পষ্ট সংকেত না আসায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থীদের এই রেষারেষিতে সাধারণ কর্মীদের মাঝে দলের প্রতি আস্থা সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে।

​বিএনপির এই অগোছালো পরিস্থিতির বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী তাদের একক প্রার্থী মাওলানা মইনুদ্দিন আহমাদকে নিয়ে আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছে। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে একজন বর্ষীয়ান ও পরিচ্ছন্ন নেতা হিসেবে তার ব্যাপক সুনাম রয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জেল-জুলুম ও ত্যাগের কারণে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি পরিচিত মুখ।

​মাওলানা মইনুদ্দিন আহমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারসমূহ হচ্ছে ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ গঠন।নারায়ণগঞ্জ ও বন্দর এলাকাকে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদকমুক্ত করা। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ-বন্দর সেতু নির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

​বিগত কয়েক বছরে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের শিকার হয়েও মাওলানা মইনুদ্দিন আহমাদ তার সাংগঠনিক শক্তি ধরে রেখেছেন। সদর ও বন্দর এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ তাকে এই আসনে একজন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বিএনপি যদি দ্রুত তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে না পারে, তবে মাওলানা মইনুদ্দিন আহমাদ এই আসনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন বলে ধারনা করেন।

​নির্বাচনী ডামাডোলে নারায়ণগঞ্জের এই গুরুত্বপূর্ণ আসনটি শেষ পর্যন্ত কার দখলে যায়, তা নিয়ে এখন সাধারণ ভোটারদের মাঝে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে জামায়াত প্রার্থী মইনুদ্দিন এগিয়ে থাকবে বলে জানান সর্বসাধারণ।