প্রবীণ বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন কালকে নিয়ে সাবেক ছাত্রদল নেতা কাজী রোমেলের কিছু কথা


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : জুলাই ৪, ২০২৬, ৩:৩২ পূর্বাহ্ন / ১০০০
প্রবীণ বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন কালকে নিয়ে সাবেক ছাত্রদল নেতা কাজী রোমেলের কিছু কথা

প্রবীণ বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন কালকে নিয়ে সাবেক ছাত্রদল নেতা কাজী রোমেলের কিছু কথা ——-

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির এক অনন্য এবং অবিসংবাদিত নাম জনাব জামাল উদ্দিন কালু। শাসকগোষ্ঠীর চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, শারীরিক নিগ্রহ এবং সুদীর্ঘ কারানির্যাতন ভোগ করেও আদর্শের হাত না ছাড়া এই প্রবীণ নেতা আজ নারায়ণগঞ্জের তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে এক অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিত্ব। তৃণমূল পর্যায় থেকে বিএনপিকে সুসংগঠিত করতে জনাব জামাল উদ্দিন কালু নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির প্রথম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি সরাসরি গুলিবিদ্ধ হন। রাজপথের সেই অগ্নিগর্ভ আন্দোলনে তাঁর ঠিক পাশেই লড়াইরত সহযোদ্ধা ইব্রাহিম গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাত বরণ করেন। সহযোদ্ধার চিরবিদায় এবং নিজের দেহে বুলেটের ক্ষত নিয়েও তিনি দমে যাননি।

পরবর্তীকালে তিনি গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন।

নারায়ণগঞ্জের নারী নেত্রীদের মধ্যে এক অনন্য সাহসিকতার প্রতীক হলেন জামাল উদ্দিন কালুর সহধর্মিণী রাশিদা জামাল।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলা দলের তৎকালীন সভাপতির দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে অত্যন্ত জোরালো ভূমিকা পালন করেন। মাঠপর্যায়ের এক তীব্র আন্দোলন চলাকালে পুলিশের বর্বরোচিত ধাওয়া ও লাঠিচার্জ থেকে জীবন বাঁচাতে গিয়ে তিনি একটি দ্বিতল ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েন। এই ঘটনায় তিনি অত্যন্ত গুরুতরভাবে আহত হন এবং তাঁর শরীরে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি হয়।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলার কারণে তাঁকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। রাজপথের এই চরম ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য হিসেবে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

পারিবারিক ঐতিহ্য ও রক্তের ধারা বজায় রেখে এই দম্পতির একমাত্র ছেলে রাফি উদ্দিন আহমেদ রিয়াদ ছাত্ররাজনীতি থেকেই স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন।

সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া রিয়াদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে অর্ধ-শতাধিক (৫০টিরও বেশি) মামলা। রাজপথে সক্রিয় অবস্থানের কারণে শাসকগোষ্ঠী তাঁকে অসংখ্যবার গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।

পূর্বে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করা রিয়াদ বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির কার্যকরী কমিটির ১নং সদস্য হিসেবে নারায়ণগঞ্জের তরুণ ও যুবসমাজকে রাজপথে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ইতিহাসে একই পরিবারের সদস্যদের গুলিবিদ্ধ হয়ে রাজপথে রক্ত দেওয়া, গুরুতর জখম হওয়া, কোমরে দড়ি, ডান্ডাবেড়ি পড়া অবস্থায় কারানির্যাতন ভোগ করা, অর্ধ-শতাধিক মামলার মুখোমুখি হওয়া এবং দুই প্রজন্মের স্বৈরাচার বিরোধী (এরশাদ ও হাসিনা বিরোধী) আন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্বের ঘটনা এক বিরল ও অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত। বয়সজনিত কারণে জনাব জামাল উদ্দিন কালু বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকলেও, তাঁর বাসভন আজও নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীদের প্রেরণার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। এই পরিবারটি নারায়ণগঞ্জের মানুষের কাছে এক আজীবন লড়াকু ও নীতিবান আদর্শের মূর্ত প্রতীক।

বিঃদ্রঃ – কারোর দৃষ্টি আকর্ষণ, করুনা কিংবা সহানুভূতি পাওয়ার আশায় নয় বরং নিজের মনের তাগিদেই কথাগুলো আপনাদের সবার সাথে শেয়ার করলাম।