তোলারাম কলেজ ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীকে মারধর অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৬, ২০২৫, ৮:৩১ অপরাহ্ন / ১০০০
তোলারাম কলেজ ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীকে মারধর অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

 

নারায়নগঞ্জ নিউজ এক্সপ্রেস :
নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্রাবাসে টেলিভিশনের শব্দ কমানোকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল আহম্মেদ অপুর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে পৌর ওসমানী স্টেডিয়ামসংলগ্ন ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর নাম ওয়ায়েজ করনী, তিনি ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করার পর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ সহ নানাভাবে ছাত্রদলের নেতাদের পক্ষে আপত্তিবার মন্তব্যও করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টেলিভিশনের ভলিউম কমানোকে কেন্দ্র করে অপু করনীকে অপমান ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। ঘটনাটি দ্রুত ছাত্রাবাসে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছুক্ষণ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়।

পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হোস্টেল সুপার আনোয়ারুল ইসলাম ও তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। আলোচনার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ‘মীমাংসা’ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

যদিও প্রশাসন ও সংগঠনের পক্ষ থেকে মীমাংসার কথা বলা হলেও ছাত্রাবাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ এখনো বিদ্যমান। তাঁদের অভিযোগ,

ছাত্রাবাসে রাজনৈতিক পরিচয়ের জোরে ক্ষমতার অপব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে, এতে শিক্ষার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার বহিষ্কার দাবি করছেন অনেকে।

একজন আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, “ছাত্রাবাসে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণ বেড়েই চলেছে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।”

কলেজ শাখা ছাত্রদল সভাপতি মনির হোসেন জিয়া বলেন, হোস্টেল সুপার রাতেই বিষয়টি সমাধান করেছেন। তবু আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্তে যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংগঠনের পক্ষ থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যক্তিগত দায় ছাত্রদল বহন করবে না।

ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ওয়ায়েজ করনী কিংবা অভিযুক্ত তোফায়েল আহম্মেদ অপুর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ, ছাত্রাবাসে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা—তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের উচিত।