শহরে আবারও হকারদের বিক্ষোভ মিছিল, পুনর্বাসনের দাবি


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ন / ১০০০
শহরে আবারও হকারদের বিক্ষোভ মিছিল, পুনর্বাসনের দাবি

‘পুনর্বাসনের আগে হকার উচ্ছেদ চলবে না’- স্লোগানে আবারও সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাতগুলো থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকাররা।

 

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন হকাররা। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রেখে মিছিল নিয়ে বের হন তারা।

 

জাতীয়তাবাদী হকার ইউনিয়ন দলের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি কেএম মিজানুর রহমান রনির নেতৃত্বে শতাধিক হকারদের মিছিলটি শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক প্রদক্ষিণ করে। একইসঙ্গে তারা শায়েস্তা খাঁ সড়কেও বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সড়কেই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের বাসার সামনেও তারা পুনর্বাসনের দাবিতে স্লোগান দেন।

 

হকাররা বলেন, “আমরা তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার হকার আছি। আমরা মাত্র তিন থেকে চারশ’ হকার এখানে আসছি। সকলে সকলকে ডেকে নিয়ে আসতে হবে। আমরা যুদ্ধ করবো আর পরে আরেকজন আইসা মজা করবে তা হবে না। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকতে হবে।”

 

মানবিক দিক বিবেচনা করে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, “আমাদের বাচ্চারাও স্কুল-কলেজ-মাদরাসায় পড়ে। আমাদের ইনকামেই সংসার চলে। আমাদের বসার ব্যবস্থা কইরা তারপর ফুটপাতের থেইকা আমাদের উঠান। কালাম সাহেবের ছেলে নাকি বলে, তিনি মরনের আগ পর্যন্ত ফুটপাতে হকার বসতে পারবে না। চামড়ার মুখ দিয়ে অনেকে অনেক কিছু বলে। কিন্তু আমরা চাই, আমাদের একটা ব্যবস্থা অতি শীঘ্রই করে দেন।”

 

পুর্নবাসনের আগে হকারদের উচ্ছেদ না করার দাবি জানানোর পাশাপাশি পুনর্বাসন নিয়ে পরিকল্পনা চূড়ান্ত না হওয়ার আগ পর্যন্ত সড়কের ফুটপাতে বিকেল পাঁচটার পর থেকে বসারও দাবি জানান হকাররা।

 

তারা বলেন, “আমাদের দেশে রোহিঙ্গাদের সরকার পালে কিন্তু আমরা দেশের নাগরিক হইয়াও আমাদের কোনো মূল্য নাই। আমাদের দুঃখ যদি কেউ বুঝতো তাইলে আমাদের কষ্ট করতে হতো না। ওনারা তো ছোটবেলা থেকে সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম হইছেন। ওনারা আমাদের দুঃখ বুঝবো না। এই জুলাই যুদ্ধে হকাররাও সংগ্রাম করছে। কিন্তু আজকে হকারের কোনো মূল্য নাই। আমাদের উচ্ছেদ না করে আমাদের বিকেল পাঁচটা থেকে বসতে দেন।”

 

গত ১৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সমন্বয়ে এক অভিযান চালিয়ে শহরের ব্যস্ততম সড়ক ও ফুটপাতগুলো থেকে হকারদের উচ্ছেদ করা হয়। একইসঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানেরও দখলে থাকা ফুটপাত ফাঁকা করা হয়।

 

উচ্ছেদের পর থেকে ফুটপাতগুলো দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন নগরবাসী। তাদের ভাষ্য, হকারদের দৌরাত্ম্যের কারণে তারা দীর্ঘ বছর ধরে ফুটপাত ব্যবহার করতে পারতেন না। হকারদের বিশৃঙ্খল অবস্থানের কারণে সড়ক দিয়ে চলাচলও ভোগান্তির ছিল। হকারমুক্ত ফুটপাত পাওয়া প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখার।

 

কিন্তু উচ্ছেদের পর পুনর্বাসনের দাবিতে টানা বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন হকাররা। যদিও সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছে, ফুটপাত দখল করে কোনো ধরনের ব্যবসা চলবে না। ফুটপাত খালি রেখেই হকারদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা চলছে।