
আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে এসেও বিতর্কিত কর্মকান্ডে সক্রিয় জয়
মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম দলের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটিতে নেতৃত্বে আসার চেষ্টা করছেন বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি শাহেনশাহর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে পরিচিত জহিরুল ইসলাম জয়। তবে তাকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, বিতর্কিত ব্যক্তিকে নেতৃত্বে আনা হলে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জয় ও শাহেনশাহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সরকারি ডকইয়ার্ডের কোটি টাকার লোহা চুরি, শীতলক্ষ্যা নদীতে বালুবাহী ট্রলার থেকে চাঁদাবাজি এবং জেলে নৌকা থেকে অর্থ আদায়ের মতো নানা অভিযোগেও জয়ের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আদালতের কোনো দণ্ড বা চূড়ান্ত রায়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগে সাবেক এক সহযোগী মো. শাহজাহান প্রধান দাবি করেন, ব্যবসার কথা বলে জয় তার কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৪৬ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ে মালামাল না দিয়ে পরে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও দীর্ঘ কয়েক মাসেও অর্থ ফেরত দেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, পরে জয় ফোন ধরা বন্ধ করে দেন এবং যোগাযোগ এড়িয়ে চলেন।
অভিযোগকারী বিষয়টি তদন্ত করে তার পাওনা টাকা আদায়ে সংগঠনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জহিরুল ইসলাম জয়ের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের ভাষ্য, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া বিতর্কিত কাউকে নেতৃত্বে আনা হলে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে। তবে এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :