
নারায়নগঞ্জ নিউজ এক্সপ্রেস :
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমড়াইল অংশের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিন দিন ময়লার ভাগাড় হয়ে উঠছে। নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাজ যেখানে শহরের ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে নিরাপদ স্থানে ফেলা, সেখানে খোদ সিটি করপোরেশনই ময়লা ফেলছে মহাসড়কে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে পথচারীরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আদমজী ইপিজেড এলাকার হাজার হাজার শ্রমিক, স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী, চাকুরীজীবি ও সাধারণ পথচারীদের সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শিমড়াইল এলাকার মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়।
এলাকাটি অতিক্রম করার সময় কাপড়ে নাক ঢাকতে হয় তাদের। দিনের পর দিন ময়লার দুর্গন্ধে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হলেও এর থেকে পরিত্রাণ মিলছে না।
সরেজমিনে মহাসড়কের শিমড়াইল মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, চিটাগাং রোড-আদমজী সড়কের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক ও জনপথের জায়গায় মহাসড়কের ওপর ময়লা স্তূপ করে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
আবর্জনার ভেতর বন বন করছে মশা-মাছি। পথচারীরা ওই এলাকা অতিক্রম করছে কাপড়ে নাক চেপে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডে ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট ডাম্পিং থাকার পরও দূর-দূরান্তের বাসাবাড়ি ও মার্কেট থেকে প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা এনে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ফেলছে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। মহাসড়কে ময়লা ফেলার কারণে বেড়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।
ওই পথ দিয়ে নিয়মিত চলাচল করেন আজিজুল হক নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, এখান থেকে প্রতিদিন অসংখ্যবার যাত্রী নিয়ে আদমজী হয়ে নারায়ণগঞ্জ যায় বহু পরিবহন। সড়কের মূল পয়েন্টে ময়লা ফেলে রাখায়, আবর্জনার দুর্গন্ধে যাত্রীরাও অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। বৃষ্টির দিনে দুর্ভোগের অন্ত থাকে না যাত্রীদের।
শিমড়াইল এলাকার বাসিন্দা মোছলেহ উদ্দিন বলেন, মহাসড়কের শিমরাইল এলাকা দিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রীবাহী ও মালবাহী পরিবহন চলাচল করে।
এ ছাড়া এই মোড়ে কয়েকটি মার্কেট, বিপণিবিতান, হাসপাতাল, মনোহারি দোকান, ফলের দোকানসহ বহু দোকাটপাটের ময়লা-আবর্জনা ওই স্থানেই ফেলা হয়। এভাবে ময়লার স্তূপ জমে সেখানে। দেখে মনে হয়, মহাসড়কটি একটি ডাস্টবিন।
ফল ব্যবসায়ী শফিক মিয়া বলেন, আমরা এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। কয়েক মাস ধরে দোকানের সামনে মহাড়কের ওপর ময়লার স্তূপ থাকায় এখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারদিকে। এভাবে ময়লা ফেলার কারণে দুর্গন্ধে বসে থাকা কষ্ট হয় আমাদের। এ ছাড়া মশার যন্ত্রণা বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। ময়লার স্তূপ দ্রুত সরানোর দাবি জানান তিনি।
ওই এলাকার সুগন্ধা হাসপাতালে আসা সেলিনা আক্তার নামের এক রোগী বলেন, হাসপাতালে আসার সময় ময়লা দেখে আমরা নিজেরাই অসুস্থ হয়ে যাই। ময়লার দুর্গন্ধে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। দুর্গন্ধে টিকে থাকা কষ্টকর হয়।
আদমজী ইপিজেডের আয়েশা ফ্যাশনে কাজ করা জাবেদা আক্তার বলেন, প্রতিদিন এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। ময়লা-আবর্জনার গন্ধে অসুস্থ হয়ে যাই। দুর্গন্ধে পেটের পীড়াসহ না না শারীরিক সমস্যায় পড়তে হয়। দ্রুত ময়লা অপসারণ করার দাবি জানান তিনি।
নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোবারক হোসেন জানান, এখানে ময়লা ফেলার বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন দেখছে। এ বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবেন। ময়লা ফেলার কারণে পরিবেশদূষণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাদের কিছু করার নেই।
শিমড়াইল মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জুলহাস উদ্দিন বলেন, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। দ্রুত ময়লা অপসারণের দাবি জানান তিনি।
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, মহাসড়কের ওপর ময়লা না ফেলতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ও স্থানীয় কাউন্সিলরকে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে বলা হয়েছে। তারা কোনোভাবেই আমাদের কথা শুনছেন না। ওই স্থানে ময়লা ফেলায় একদিকে সড়ক নষ্ট হচ্ছে, পথচারী ও যাত্রীদের কষ্ট হচ্ছে। সভ্য দেশে এমন কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র পাল বলেন, শিমড়াইল মোড় এলাকায় সড়কের ওপর ময়লা ফেলার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ওই এলাকায় আমাদের সুপারভাইজার আছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে খুব শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়লা না ফেলার বিষয়ে সড়ক ও জনপথ থেকে চিঠি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো চিঠি পাইনি।
আপনার মতামত লিখুন :