
নারায়নগঞ্জ নিউজ এক্সপ্রেস :
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। এর আগে একটি রিসোর্টে স্বতন্ত্রপ্রার্থী মাকসুদ হোসেন এর সাথে মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সাথে গোপন বৈঠকের গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল।
এবার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের ছেলে আবুল কাউসার আশার সাথে জামায়তে দুই শীর্ষ নেতার গোপন বৈঠক ও সমঝোতার খবর পাওয়া গেছে।
তারা হলেন জামায়াতে ইসলামি কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মাঈন উদ্দিন আহাম্মাদ ও মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী মাওলানা মনোয়ার হোসেন।
সম্প্রতি বন্দরের ২৩নং ওয়ার্ডে আবুল কাউসার আশার কার্যালয়ে তাদের ওই গোপন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মিটিং শেষে মাওলানা মাঈন উদ্দিন আহাম্মাদ ও মাওলানা মনোয়ার হোসেনকে আশার কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও পাওয়া গেছে। ভিডিওতে আবুল কাউসার আশাকে মাওলানা মাঈন উদ্দিন আহাম্মদ এর গাড়ির দরজা খুলে গাড়িতে উঠিয়ে দিতে দেখা গেছে।
প্রসঙ্গত, শুরুতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে জামায়তে ইসলামী থেকে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে প্রাথমিক ভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মাঈন উদ্দিন আহাম্মাদের নাম ঘোষণা করা হয়। অপরদিকে বিএনপি থেকে মাসুদুজ্জামান মাসুদ কে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এদিকে মাওলানা মাঈন উদ্দিন আহাম্মাদ তার নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াতে থাকেন এবং একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। হঠাত করে ১৬ ডিসেম্বর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ। তখন থেকেই গুঞ্জন উঠতে শুরু করে যদি বিএনপি থেকে সাবেক এমপি আবুল কালামকে মনোনয়ন দেয়া হয় তাহলে নির্বাচন করবেন না মাওালানা মাঈন উদ্দিন আহাম্মাদ। বিএনপি থেকে মহানগরের আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানকে মনোনীত করা হলে তখনও মাঠে ছিলেন মাওালানা মাঈন উদ্দিন আহাম্মাদ, কিন্তু যখন আবুল কালামকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয় তখন গুঞ্জন কে বাস্তবে রূপ দিয়ে জোটের থেকে খেলাফত মজলিসের সিরাজুল মামুন কে প্রার্থী ঘোষণা করে নির্বাচন থেকে সরে যান মাওলানা মাঈন উদ্দিন আহাম্মাদ। মূলত আবুল কালামের বিজয়কে সহজ করতেই তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সেই উদ্দেশ্য কে বাস্তবায়ন করতে নিজেদের নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীর পক্ষে শক্ত অবস্থান না নিয়ে বিএনপি প্রার্থীর ছেলের সাথে গোপন সমঝোতা বৈঠক সেরে নিয়েছেন জামায়াতের এই শীর্ষ দুই নেতা।
আপনার মতামত লিখুন :