নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির দুই দিকপালের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী শুক্রবার


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২০, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ন / ১০০০
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির দুই দিকপালের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী শুক্রবার

২০ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক শোকাবহ দিন। ১৯৮৭ সালের এই দিনে জেলার দুই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ একেএম শামসুজ্জোহা ও হাজী জালালউদ্দিন আহমেদ ইন্তেকাল করেন। একজন ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অন্যতম, অন্যজন ছিলেন নারায়ণগঞ্জ শহর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তারা নিজ নিজ অবস্থান সুদৃঢ় করার পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মকেও রাজনীতিতে পথচলার দীক্ষা দিয়ে গেছেন।

প্রয়াত এই দুই নেতার সন্তানরা পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন ও করছেন। একেএম শামসুজ্জোহার তিন ছেলে—এ কে এম শামীম ওসমান, এ কে এম সেলিম ওসমান এবং প্রয়াত এ কে এম নাসিম ওসমান—নারায়ণগঞ্জ-৪ ও ৫ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে হাজী জালালউদ্দিন আহমেদের ছেলে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বিএনপি থেকে চারবার এমপি নির্বাচিত হন এবং মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

একেএম শামসুজ্জোহা

একেএম শামসুজ্জোহা ছিলেন ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ও সাবেক গণপরিষদ সদস্য। ২০১১ সালে তিনি মরণোত্তর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। তাঁর পিতা খান সাহেব ওসমান আলী ছিলেন গণপরিষদের সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন।

তার বড় ছেলে এ কে এম নাসিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর–বন্দর) আসনের এমপি ও জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। তিনি ২০১৪ সালে ইন্তেকাল করেন। বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর মেজ ছেলে এ কে এম সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি নির্বাচিত হন এবং নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ও বিকেএমইএ’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ছোট ছেলে এ কে এম শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের চারবারের এমপি ছিলেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় শামীম ওসমান, সেলিম ওসমান ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলা হয়। আত্মগোপনে চলে যান তারা।