নাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে সম্ভাব্য তরুণ মুখ


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ন / ১০০০
নাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে সম্ভাব্য তরুণ মুখ

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এখন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন দল ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। সিদ্ধিরগঞ্জ, সদর ও বন্দর এলাকায় প্রার্থীদের সরবতা বাড়লেও আলোচনায় উঠে এসেছে কয়েকজন পরিচিত তরুণ রাজনৈতিক নেতার নাম। আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা না দিলেও তাদের অনুসারী ও নেতা-কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছেন।

তরুণদের মধ্যে আলোচনায় আছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি। তিনি ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ে জনসংযোগ কার্যক্রমেও তাকে নিয়মিত দেখা যায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেও তার নাম আলোচনায় ছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক মামলায় কারাভোগের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

আলোচনায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ-এর ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম রাকিব। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ভাইয়ের নির্বাচনী প্রচারণা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্থানীয় পর্যায়ে তার প্রভাব ও দলীয় সক্রিয়তাও চোখে পড়ার মতো। সাম্প্রতিক নির্বাচনে তার সাংগঠনিক দক্ষতা আলোচনায় আসায় নাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে সম্ভাব্য তরুণ মুখ হিসেবে তার নামও ঘুরেফিরে আসছে।

আলোচনায় থাকা তরুণ নেতাদের মধ্যে অন্যতম ফারহানা মানিক মুনা। তিনি নারায়ণগঞ্জের পরিচিত ছাত্রনেতা এবং বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সভাপতি। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। আন্দোলনের পর শহরে নানা কর্মসূচি ও শহীদদের স্মরণে আয়োজনেও তাকে দেখা গেছে। এর আগে ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন ও ২০২০ সালে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে টানা অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন তিনি।

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের কেন্দ্রীয় সংগঠক শওকত আলী-ও আলোচনায় আছেন। তিনি নারায়ণগঞ্জে দলের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলায় দলীয় কার্যক্রম জোরদার করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী না হলেও নারায়ণগঞ্জ-৪ ও ৫ আসনে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। এতে নারায়ণগঞ্জে নিজের ও দলের রাজনৈতিক উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হয়েছে।

আরও আলোচনায় রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক আহমেদুর রহমান তনু। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর–বন্দর) আসনে এনসিপির প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী ছিলেন। পরে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ-এর পরিচালক হিসেবেও যুক্ত আছেন।

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে তরুণ নেতাদের এই সক্রিয়তা ও মাঠের কাজ আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নতুন মুখের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। ফলে নাসিক নির্বাচনে একাধিক তরুণ রাজনৈতিক মুখের লড়াই দেখার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।