স্বেচ্ছাসেবক দল সেই বখাটে নেতা আপেল মারুফকে অব্যাহতি


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১১, ২০২৫, ৯:৩৪ অপরাহ্ন / ১০০০
স্বেচ্ছাসেবক দল সেই বখাটে নেতা আপেল মারুফকে অব্যাহতি

নারায়নগঞ্জ নিউজ এক্সপ্রেস :
অবশেষ বখাটে আপেল মারুফকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। অব্যাহতি দিয়েই কি বখাটের সমাপ্তি নাকি প্রাথমিক সদস্য পদ বাতিল করা হবে। নারী ও শিশু নির্যাতনের দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া বন্দরের মদনপুর এলাকায় ২৭নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বন্দর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটিতে সহ দপ্তরের দায়িত্বে থাকা (১৫নং সদস্য) এস, এম আপেল মারুফকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ১১ নভেম্বর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ দপ্তর সম্পাদক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) হাসানুজ্জামান লিমন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানা ও সদস্য সচিব মমিনুর রহমান বাবু এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন।
অব্যাহতি পত্রে উল্লেখ করা হয়, সু-নিদিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজে জড়িত থাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার বন্দর থানার সদস্য (সহ-দপ্তরের দায়িত্বে) থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। অব্যাহতি প্রাপ্ত নেতার কোন দায়-দায়িত্ব দল নিবে না এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সকল পর্যায়ের নেতা কর্মীদেরকে তার সাথে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখতে অনুরোধ করা হলো।
মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মমিনুর রহমান বাবু অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, অব্যাহতি প্রদান করা এই নেতার বিরুদ্ধে নাবালিকা শিক্ষার্থীকে জোড় করে তুলে নিয়ে বিয়ে করে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে। এ ঘটনা স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক এই অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্কুল শিক্ষার্থী নারায়ণগঞ্জ আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামীম আক্তারের আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন। গত ২৮ অক্টোবর তার জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়েছে।
জবানবন্দীতে তিনি উল্লেখ করেন, আমার সাথে ১নং আসামি এস, এম ্আপেল মারুফ এর সাথে ২ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল প্রেম না করলে বিভিন্ন হুমকি দিতো। গত ১৪ অক্টোবর ও আমাকে জোর করে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে শারিরীক সর্ম্পক করে। বিয়ের আগে আমার কিছু ছবি তুলেছিস ও সেগুলো বিয়ের পর ফেসবুকে পাবলিক করে।
ম্যাজিস্ট্রেট এর কাছে দেওয়া ওই জবানবন্দীতে ভুক্তভোগীর বয়স ১৪ বছর উল্লেখ্য করা হয়েছে। বন্দর থানায় দায়েরকৃত মামলা নং ৪৮(১০)২৫ এর ভিত্তিতে উক্ত জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়।
এদিকে ২৭ অক্টোবর ভুক্তভোগীর পরিবার এস.এম আপেল মারুফ ও মাবিয়া ওরফে রিতা হামিদ এর নাম উল্লেখ ও ৩/৪জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ৭/৩০ ধারায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর অধীনে বন্দর থানা একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ অক্টোবর ধামগড় ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক হানিফ ভিকটিম ধর্ষণ হয়েছে কিনা এবং তার প্রকৃত বয়স কত তা ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিবেদন চেয়ে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
এদিকে ঘটনার সঠিক তদন্ত ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে সঠিক বিচার চেয়ে গত ৪ নভেম্বর জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ভোক্ত ভোগীর পরিবার।