রূপগঞ্জে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর নেতৃত্বে হামলা,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট, মুক্তিযোদ্ধাসহ আহত-৩ 


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : জুন ৩, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ন / ১০০০
রূপগঞ্জে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর নেতৃত্বে হামলা,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট, মুক্তিযোদ্ধাসহ আহত-৩ 

রূপগঞ্জে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর নেতৃত্বে হামলা,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট, মুক্তিযোদ্ধাসহ আহত-৩

 

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীর নেতৃত্বে হামলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীরা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। হাসপাতালের কাগজেপত্রে ওই রোগী ভর্তি থাকলেও বাস্তবে ভর্তি নেই। এ নিয়ে হাসপাতাল প্রাঙ্গনে আলোচনা সমালোচনা ঝড় বইছে। এ ঘটনায় এলাকায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বুধবার ( ৩ জুন) সকালে উপজেলার মিঠাবো (মাছুমাবাদ) এলাকায় ঘটে এই ঘটনা।

ভুক্তভোগী জুম্মন ভূঁইয়া অভিযোগ করে জানান, তাদের বাড়ি মিঠাবো( মাছুমাবাদ) এলাকায়। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাছেদ ভূঁইয়া ও বড় ভাই সুমন ভূঁইয়ার কাছে একই এলাকার যুবদলের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মুরাদুল ইসলাম মুরাদ ও ভুমিদস্যু শহিদুল ইসলাম অঞ্জনের ছত্র ছায়ায় মৃত, আব্দুল হাই ভূইয়ার ছেলে সোহেল ভুইয়া,রোমান ভূইয়াসহ তাদের লোকজন দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদার টাকা না দিলে যেকোনো সময় হামলা করবে বলে হুমকি দিয়ে আসছিল।

দাবিকৃত চাদার টাকা না পেয়ে গত ১জুন সোমবার রাত ১০টার দিকে সোহেল ভূঁইয়া,তুষার, সাদ্দাম, রোমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০/২৫ জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জুম্মন ভুইয়াদের মুদি মনোহরি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর চালিয়ে লুটপাট করে। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাছেদ ভূঁইয়াকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালায় এবং জুম্মন ভুইয়া ও তার ভাই সুমন ভুইয়াকে পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনার পর হামলাকারী সোহেল ভুইয়া আহত হওয়ার নাটক সাজিয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি হয়। তবে, হাসপাতালের কাগজ-পত্রে সোহেল ভুইয়া ভর্তি থাকলেও বাস্তবে ভর্তি নেই। ৩ জুন সকালে সোহেল ভুইয়ার নেতৃত্বে ওই সন্ত্রাসীরা আবারো মুক্তিযোদ্ধা বাছেদ ভূইয়ার বাড়ি ঘরে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা মুক্তিযোদ্ধা বাছেদ ভুঁইয়া, জুম্মন ভুইয়া ও সুমন ভুইয়াকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে।

এদিকে, সড়েজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সএ গিয়ে কাগজে-কলমে সোহেল ভূইয়াকে ভর্তি দেখালেও বাস্তবে তার ভর্তি থাকার কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার বাদল কুমার সাহা জানান, সোহেল ভূঁইয়া নামের এক রোগী ভর্তি হলেও ওই রোগী পালিয়ে যায়। আর পালিয়ে গিয়ে ওই রোগীর নেতৃত্বে হামলার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

এ ব্যাপারে কথা বলতে অভিযুক্ত সোহেল ভুইয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে রূপগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।