ফতুল্লায় ঋণের কিস্তির টাকা নিয়ে অভিমানে তরুণীর মৃত্যু


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৫, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ন / ১০০০
ফতুল্লায় ঋণের কিস্তির টাকা নিয়ে অভিমানে তরুণীর মৃত্যু

ফতুল্লায় ঋণের কিস্তির টাকা নিয়ে অভিমানে তরুণীর মৃত্যু

 

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধ নিয়ে পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে বৃষ্টি (১৮) নামের এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। স্বামীর ভাষ্য, কিস্তির টাকা দিতে না পারায় জামিনদার খালা-শাশুড়ির সঙ্গে মনোমালিন্যের পর অভিমানে তিনি ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরের দিকে ফতুল্লা পোস্ট অফিস রোডের কবরস্থান রোডের খোসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহত বৃষ্টি ওই এলাকার কিবরিয়ার স্ত্রী। তাঁদের দেড় বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তাঁদের গ্রামের বাড়ি বরিশালে।

 

হাসপাতালে কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্বামী কিবরিয়া বলেন, ‘আমার স্ত্রীর নামে বিজ সমিতি থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ঋণ ছিল। প্রতি সপ্তাহে ২ হাজার ২০০ টাকা করে কিস্তি দিতে হতো। মঙ্গলবার সমিতির মাঠকর্মী শামীমা কিস্তির টাকা নিতে বাসায় আসেন। টাকা না পেয়ে তিনি কিস্তির জামিনদার আমার স্ত্রীর খালা-শাশুড়িকে চাপ দেন।

 

কিবরিয়া বলেন, পরে তাঁর স্ত্রীর খালা-শাশুড়ি ঘরে গিয়ে বৃষ্টির সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এ নিয়ে বৃষ্টি রাগ ও অভিমান করেন। একপর্যায়ে তিনি ঘরের ভেতর গিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন বলে জানান তিনি।

 

স্বামী কিবরিয়া বলেন, পরে বাসায় ফিরে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে দেখতে পান, বৃষ্টি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছেন। পরে দরজা খুলে তাঁকে দ্রুত নামিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইমরান হোসেন বৃষ্টিকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক জানান, তাঁকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয়েছে।

 

তবে বৃষ্টির সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকারিয়া ম্যানেজার সোহেল রানা। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ওই অঞ্চলটি আমার অধীন। ঘটনাটি শুনে আমি আমাদের কর্মী শামীমার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, বৃষ্টির সঙ্গে কোনো খারাপ ব্যবহার করেননি। বৃষ্টি আজ কিস্তির টাকা দিতে পারবেন না বললে তিনি সেখান থেকে চলে আসেন। পথে বৃষ্টির কিস্তির জামিনদার তাঁর খালা-শাশুড়ি এবং সমিতির একজন সদস্যকে বিষয়টি জানান। পরে তিনি চলে আসেন। এর বেশি কিছু নয়।

 

সোহেল রানা আরও বলেন, ‘আমাদের কিস্তি সময়মতো দিতে না পারলে আমরা এক সপ্তাহ থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় দিয়ে থাকি। কাউকে কিস্তির টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় না।