
কারাগার থেকে জামিনে এসে বন্দরে ছাত্রলীগ নেতা পিস্তল জুম্মান ফের বেপরোয়া
কারাগার থেকে জামিনে এসে আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বন্দরের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম জুম্মান ওরফে ‘পিস্তল জুম্মান’। সাম্প্রতিক অভিযান ‘ডেভিল হান্ট’-এ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কিছুদিন জেল খাটার পর জামিনে বেরিয়ে এসে সে এলাকায় নতুন করে ভয়ভীতি ও প্রভাব বিস্তার শুরু করেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিজের আপন চাচাতো ভাই সোলেমান সাহেদকে যেকোনো মুহূর্তে মেরে ফেলার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছে জুম্মান। সন্ত্রাসীর এমন হুমকিতে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও প্রাণভয়ে দিন কাটাচ্ছেন সোলেমান সাহেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা। জুম্মানের হাত থেকে রেহাই পেতে এবং পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগী সোলেমান প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের আশু হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান ও তার পুত্র অয়ন ওসমানের নেপথ্য মদদে এলাকায় একক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল এই পিস্তল জুম্মান। ওই রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে সে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাধারণ ও নিরীহ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছিল।
একপর্যায়ে জুম্মান জোরপূর্বক স্থানীয় ইন্টারনেট ও ডিশ স্যাটেলাইট ব্যবসা কবজা করে নেয়। সে সময় ওসমান পরিবারের নাম ভাঙিয়ে অন্য ইন্টারনেট ব্যবসায়ী টিপুর নেট লাইনের তার ও মূল্যবান যন্ত্রপাতি কেটে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী টিপু বারবার আইনগত প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ধর্না দিলেও কোনো সুরাহা পাননি।
জুম্মানের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। ২০২১ সালে মোদাচ্ছের হোসেন নামে এক ব্যক্তির মেয়ে মুন্নীকে (২৫) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে সে। পরবর্তীতে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ওই নারী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। উক্ত ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ জুম্মানকে গ্রেপ্তার করে এবং সে বেশ কিছু দিন জেল হাজতে থাকে।
জেল থেকে জামিনে বের হয়েই সে এলাকায় ক্যাবল ব্যবসায়ী মনির হোসেনকে নির্মমভাবে মারধর করে এবং তার ডিশ ব্যবসা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। ওই সময় বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে ভুক্তভোগী মনির হোসেন আইনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ পেশ করেছিলেন।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে জুম্মান নিজেকে আড়াল করে গুপ্তভাবে চলাফেরা শুরু করে। তবে সম্প্রতি ওয়ারিশি সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারায় সে পুনরায় তৎপর হয়ে উঠেছে এবং আপন চাচাতো ভাই সোলেমান সাহেদকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।
এলাকাবাসীর মতে, চিহ্নিত এই অপরাধী জামিনে এসে বারবার এলাকা অস্থিতিশীল করে তুলছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অপ্রীতকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
আপনার মতামত লিখুন :