
নারায়নগঞ্জ নিউজ এক্সপ্রেস :
নারায়ণগঞ্জ ১ রুপগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী তার এপিএস এমদাদুল হকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেছে সিআইডির ফিনান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট । বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট বাদি হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় প্রতারনাপূর্বক চাঁদাবাজীর মাধ্যমে ভুয়া দলিল তৈরি করে অবৈধভাবে মোট ২৪০১.৪৬ শতাংশ জমি ।যার বর্তমান সরকারি বাজারমূল্য ৮৬ কোটি ৭৮ লক্ষ ৮৭ হাজার ৬৪৪ টাকা। জবর দখল, হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করে পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার মামলা নম্বর ৪৩, ধারা- মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪(২) রুজু করেছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।
মামলায় আসামী করা হয়েছে সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (৭৭), তাঁর সাবেক এপিএস এমদাদুল হক (৫২), সৈয়দা ফেরদৌসী আলম নীলা (৫৭), তোফায়েল আহমেদ আলমাছ (৫৫), মো. মাহাবুবুর রহমান, জাকারিয়া মোল্লা (৪৮), আলফাজ উদ্দিন (৬৩), দিমন ভূঁইয়া (৫৫),
অনুসন্ধানে জানা যায় যে, উল্লেখিত আসামীরা অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জন ব্যক্তির সহায়তায় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র গড়ে তোলে। অপরাধ চক্রটি পরস্পর যোগসাজশে গত ০১/০১/২০১৫ খ্রি. হইতে ২০/০৭/২০২৪ খ্রি. পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে ভিকটিম . মো. শাহ আলমের ১২৪ শতাংশ, আব্দুস সোবহান মিয়ার ১০ শতাংশ, নাঈম প্রধানের ১৮ শতাংশ, হাসিনা বেগমের ০৯ শতাংশ, আলেয়ার ৪৫ শতাংশ, ইয়াছিন প্রধানের ২৭.৫ শতাংশ,. সানজুরা বেগমের ০৪ শতাংশ, মো. আশরাফ উদ্দিন ভুইয়ার ৭২ শতাংশ, মোস্তফা মনোয়ার ভুইয়ার ৩৪৬ শতাংশ, মো. হাবিব খানের ১৮৩.৫ শতাংশ, রাশিদা ভুইয়ার ১২৪ শতাংশ, আমজাদ আলী ভুইয়ার ৭৬০.৫ শতাংশ, মোবারক ভুইয়ার ৩১ শতাংশ, নূর-ই-তাছলীম তাপসের ৪৩০.৭ শতাংশ, মো. মাহবুবুল হক ভুইয়ার ৭১.৪৭ শতাংশ এবং মোহাম্মদ মাহমুদুল হকের ৬৫ শতাংশসহ সর্বমোট ২৪০১.৪৬ শতাংশ জমি যার বর্তমান মূল্য সরকারী দর অনুযায়ী (প্রতি শতাংশ ৩,৬১,৪০০ দ্ধ২৪০১.৪৬)= ৮৬ কোটি ৭৮ লক্ষ ৮৭ হাজার ৬৪৪ টাকা পরস্পর সংঘবদ্ধভাবে প্রতারণাপূর্বক চাঁদাবাজীর মাধ্যমে ভুয়া দলিল সৃজন করে অবৈধভাবে স্থাবর সম্পত্তি জবর দখল করে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছে।
ঘটনা সম্পর্কিত বিষয়ে বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ, মহানগর আদালত, ঢাকার পারমিশন পিটি. নং- ৬৮৪/২০২৫, তারিখ-০৮/০৭/২০২৫ খ্রি. মুলে সম্পত্তি ক্রোক করা আছে, যার বর্তমান বাজার মূল্য ৪০০ (চারশত) কোটি টাকা।
ক্রোককৃত সম্পত্তির রিসিভার হিসেবে বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ, মহানগর আদালত, ঢাকা সিআইডি প্রধান (এ্যাডিশনাল আইজিপি) নিয়োগ করেছেন। ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর সদস্যদের শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ওসি মো: সবজেল হোসেন সিআইডি ফিনান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের মামলা দায়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন থানায় মামলাটি রজু হয়েছে। মামলাটি সিআইডির ফিনান্সিয়ার ক্রাইম ইউনিট তদন্ত করছে।
আপনার মতামত লিখুন :