বিডব্লিউকে স্বনির্ভর শিপইয়ার্ডে রূপান্তর করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : নৌবাহিনী প্রধান


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : জুন ৪, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ন / ১০০০
বিডব্লিউকে স্বনির্ভর শিপইয়ার্ডে রূপান্তর করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : নৌবাহিনী প্রধান

বিডব্লিউকে স্বনির্ভর শিপইয়ার্ডে রূপান্তর করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : নৌবাহিনী প্রধান

 

বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেছেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিদেশি নির্ভরশীলতা হ্রাস করে স্বনির্ভরতা আনয়নের জন্য কাঁচামাল অনুসাঙ্গিক যন্ত্রপাতি দেশেই উৎপাদন করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আমরা বর্তমান সরকারকে অবহিত করেছি। সেই সঙ্গে আধুনিক জাহাজ নির্মাণ এবং বিভিন্ন সক্ষমতা অর্জনে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনাকান্দায় অত্যাধুনিক ফ্লোটিং ক্রেন বিএনএফসি ‌‘বলীয়ান’ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন।

 

এদিন নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড (ডিইডব্লিউ) নির্মিত ৭০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর লজিস্টিক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘বলীয়ান’ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করা হয়।

 

এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, সম্প্রতি প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এই ইয়ার্ডটি পরিদর্শন করেছিলেন। তিনি এই ইয়ার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে দেশের শিল্প প্রতিষ্ঠানকে সংযুক্ত করে আধুনিক জাহাজ নির্মাণ এবং বিভিন্ন সক্ষমতা অর্জনে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। কোস্টগার্ডসহ নৌবাহিনীর বিভিন্ন যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে বিডব্লিউ নারায়ণগঞ্জকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের রয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার এই বিডব্লিউ লিমিটেডকে একটি স্বনির্ভর শিপইয়ার্ডে রূপান্তর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। যা হলে বড় আকারের যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণ করা সম্ভব হবে। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ডকইয়ার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড হস্তান্তর করা হয়েছিল। নৌবাহিনী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এই প্রতিষ্ঠানটির আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

 

৪৫ মিটার দৈর্ঘ্য, ১৫ মিটার প্রস্থ এবং ৩ মিটার গভীরতা বিশিষ্ট ফ্লোটিং ক্রেনটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০.৫ মাইল গতিতে চলাচল করতে সক্ষম। ৭০ টন উত্তোলন ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্ল্যাটফর্মটি জেটি এবং সমুদ্রে অবস্থানরত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজসমূহের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেবে। পাশাপাশি ভারী যন্ত্রপাতি, যান্ত্রিক সরঞ্জাম ও বিভিন্ন নৌ-উপকরণ উত্তোলন, স্থানান্তর এবং প্রতিস্থাপনের মতো জটিল কারিগরি কার্যক্রম অধিক দক্ষতা ও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।