আইনীভাবে বগুড়া আফাকু হিমাগারের ৩৮ কোটি টাকা খেলাপী ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ নেই : ইসলামী ব‍্যাংক


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫, ৪:২৮ অপরাহ্ন / ১০০০
আইনীভাবে বগুড়া আফাকু হিমাগারের ৩৮ কোটি টাকা খেলাপী ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ নেই : ইসলামী ব‍্যাংক

 

নারায়নগঞ্জ নিউজ এক্সপ্রেস :
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক আফাকু কোল্ড স্টোরেজের প্রায় ৩৮ কোটি টাকা ঋণখেলাপী ঋণ স্বাক্ষর জাল জালিয়াতি করে অবৈধভাবে পুনঃতফসিলের অপচেষ্টা নিয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ,বগুড়া বড়গোলা শাখা।
ব্যাংকটির বড়গোলা শাখা অফিসের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, আইন লঙ্ঘন করে কোনো কাজ আমরা করবো না। আজ অন্যায় করলে দশ বছর পরে হলেও আমাদের জেলে যেতে হবে। এমন অন্যায় কাজ আমরা কখনোই করবো না।
তিনি আরও জানান, ইসলামী ব্যাংকের হেড অফিস থেকে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চাওয়া হয়েছিল এবং আমরা যা সত্য,বাস্তব ও কাগজপত্রে পেয়েছি সেটিই যথাযথভাবে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এছাড়াও ঋণখেলাপীর পুরো টাকা পরিশোধে চুড়ান্ত কল ব্যাক নোটিশের সময়সীমা ১৮ ডিসেম্বর পেরিয়ে গেলেও ব্যাংকে কোন টাকা জমা হয়নি বলেও তিনি জানান।
তিনি আরো বলেন, আফাকু কোম্পানির এমডি ও পরিচালক দেশের বাহিরে পলাতক এটা আমরা জানি ,আইনগতভাবে এটা পুনঃ তফসিলের সুযোগ আর দেখছি না। নতুন ম‍্যানেজার এসেছে, এ বিষয়ে এর বেশি কিছু তার জানা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একই কথা জানান বগুড়া জোনাল অফিসের আরেক কর্মকর্তাও। তিনিও নাম প্রকাশ না করার শর্ত দিয়েছেন।

এদিকে, ঋণ পুনঃতফসিল জালিয়াতির ঘটনায় আদালতের নির্দেশে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়, যেকোন সময় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্ট নথি পত্র জব্দ করবেন।এদিকে দুদকের তদন্ত চলাকালীন সময়ে যেন কোনোভাবেই ঋণ পুনঃতফসিল সংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণ করা না হয়—এ মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন আইনজীবী এডভোকেট আব্দুল ওহাব।
এদিকে আকাফু কোল্ড স্টোরেজ এর এমডি শাহজাহান চৌধুরী ও পরিচালক মুন্নী চৌধুরীর অনুপস্থিতিতে কোম্পানির চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান মান্না ঋণটি পুন: তফসিল ও সিআইবি স্থগিত চেয়ে মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনের মাননীয় বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও মাননীয় বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদি বেঞ্চে রিট পিটিশন দায়ের করেন যার নং ২০৩১৬/২০২৫ পিটিশন টি বিজ্ঞ আদালতে উভায়পক্ষের শুনানীন্তে আদেশের জন‍্য রাখা হয়েছে ।

অন্যদিকে, কোল্ড স্টোরেজটির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে মিল্লাত হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। রিট পিটিশন নং ১৭৭৭২/২০২৫-এর শুনানি শেষে হাইকোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে। পরবর্তীতে ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক ড. মোঃ রুবেল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে সেই নির্দেশনা ইসলামী ব্যাংককে অবহিত করা হয়। এছাড়াও কোম্পানী আইনে আরেকটি রিট মহামান্য হাইকোর্টে দায়ের হয়েছে, যার নং-২২৭০/২০২৫। যার নির্দেশনা এডভোকেট সার্টিফিকিটের মাধ্যমে ব্যাংককে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, আফাকু ক্লোড স্টোরেজ লিমিটেড এর ব‍্যাংক মর্টগেজ করা সম্মতির ঘাপলা আছে বলে ব‍্যাংক সূত্রে জানানো হয় ক্লোড স্টোরেজ সীমানার মধ‍্য অন‍্য মালিকানাধীন সম্পত্তি রয়েছে যা মর্টগেজ নেয়া হয়নি ।
ইতিমধ্যে কোম্পানির ঋন ৬ বার পুন: তফসীল করা হলেও মালিক পক্ষ ব‍্যাংক গ্রাহক সম্পর্কে অবনতি করেছেন । হঠাৎ করে এই ঋন পুন:তফসিলে অন‍্যায় না করায় বা অন‍্যায় সহযোগিতা না করায় শাখা ব্যবস্থাপক তৌহিদ রেজা কে বরিশাল স্ট‍্যান্ড রিলিজ করা হয় এবং হেড অফিস থেকে নতুন শাখা ব্যবস্থাপক পাঠানো হয়েছে ।

সবমিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিদেশ পলাতক ও জুলাই গণহত্যার ৯ মামলার আসামী এমডি শাজাহান চৌধুরী, পরিচালক ইসমত আরা লাইজুর অনুপস্থিতিতে সহি স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া রেজুলেশন তৈরি, প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিয়ে হাইকোর্টে ২ টি মামলা বিচারাধীন এবং দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের সক্রিয় তদন্ত চলমান -এই সব গুরুতর বিষয় উপেক্ষা করে যদি অবৈধভাবে ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়, তাহলে তা হবে প্রকাশ্যে জালিয়াতি ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার ভয়াবহ নজির।

সচেতন মহলের মতে, বিশেষ কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কে সাময়িক সহায়তার জন‍্য এ ঘটনায় আইন ও ন্যায়বিচার উপেক্ষিত হলে দেশের ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে।এবং জনগণের ব‍্যাংকে রাখা আমানত খেয়ানত হবে ।