
সোনারগাঁওয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার দুই পা ভেঙে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার দুই পা ভেঙে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় গত সোমবার দুপুরে সাদিপুর ইউনিয়নের ভারগাঁও চৌধুরীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. হাকিমকে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আহতের বাবা আব্দুল আউয়াল বাদী হয়ে মঙ্গলবার সকালে সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
জানা যায়, উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের ভারগাঁও চৌধুরীপাড়া এলাকায় ফুল চাঁন মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে একটি সন্ত্রাসী দল তৈরি করে এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ করেন ওই এলাকার বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য মো. হাকিম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত সোমবার দুপুরে জোহরের নামাজের পর মসজিদের মাঠে জাকিরের নেতৃত্বে মাসুম মিয়া, আলম মিয়াসহ ৭–৮ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র—লোহার রড, হকিস্টিক, দা ও লাঠিসোঁটা—নিয়ে মো. হাকিমের ওপর হামলা করে। এ সময় পিটিয়ে তার দুই পা ভেঙে দেয় হামলাকারীরা। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আহতের বাবা আব্দুল আউয়াল জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আসছে জাকির হোসেন ও তার লোকজন। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় নেতাদের শেল্টারে নির্বিঘ্নে এসব অপকর্ম করে আসছে। তার ছেলে আওয়ামী লীগ সরকার পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে এসবের প্রতিবাদ করে আসছিল। গত সোমবার দুপুরে জোহরের নামাজ শেষে তাকে একা পেয়ে তার ওপর হামলা করা হয়। এ সময় লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে তার দুই পা ভেঙে দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতা অপপ্রচার করছে। তবে তার ভাতিজা মাসুমের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
সোনারগাঁও থানার ওসি মো. মহিববুল্লাহ বলেন, হামলার ঘটনায় অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :