
বন্দরে কুমির আতঙ্ক, ধরতে গিয়ে হিমশিম বন বিভাগের
নারায়ণগঞ্জের বন্দরের তিনগাঁও এলাকায় একটি পুকুরে দেখা দেওয়া কুমিরটি ওই স্থান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সরে গেছে। রোববার দিনভর বন বিভাগের সদস্যরা কুমিরটি উদ্ধারের চেষ্টা করেও সফল হননি। সোমবার আবারও কুমিরটি উদ্ধারে অভিযান চালানোর কথা রয়েছে।
বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আস সাদিক জানান, রোববার সারাদিন বন বিভাগের পক্ষ থেকে কুমিরটি ধরার চেষ্টা করা হলেও সেটিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাতে ঢাকায় ফেরার পর তাঁরা জানতে পারেন, কুমিরটি পুকুর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে চলে গেছে। কুমিরটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের আশা করছেন তাঁরা।
বন্যপ্রাণী পরিদর্শক বলেন, ‘বন্দরবাসীর প্রতি অনুরোধ, কুমিরটিকে না মেরে জাল বা দড়ি দিয়ে আটকাতে পারলে আমাদের জানাবেন।’ এ জন্য তিনি ০১৯৯৯০০৪৩৬১ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেছেন।
উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তিনগাঁও এলাকায় একটি পুকুরে কুমিরের উপস্থিতির তথ্য পাওয়ার পর ভেটেরিনারি সার্জন, সংশ্লিষ্ট স্টাফ ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনকে সতর্ক করছেন। বিষয়টি স্থানীয় বন বিভাগ ও ঢাকার বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলকে জানানো হয়েছে। রোববার উদ্ধারকারী দল কুমিরটি ধরার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিবানী সরকার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পুকুরে না নামতে এবং পুকুরের পাড়ে না যেতে বলা হয়েছে। কুমির দেখতে পেলে কাছে গিয়ে ছবি বা ভিডিও ধারণ না করার পাশাপাশি কুমিরটিকে ধরা, তাড়ানো, উত্ত্যক্ত বা আঘাত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিশু ও গবাদিপশুকেও পুকুর ও আশপাশের এলাকা থেকে দূরে রাখতে বলা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আস সাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিরটি মহাবিপন্ন মিঠাপানির কুমির এবং এটি মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে কুমিরের অবস্থান ও গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজে ঝুঁকি না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।
কুমির উদ্ধারে উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, পুলিশ ও বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দল সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
আপনার মতামত লিখুন :