
দ্রুত সময়ে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ করে সুষ্ঠ পরিবেশে শিক্ষাদানের ব্যবস্থার প্রত্যাশা করি : দিদার খন্দকার
২৭ লক্ষ্মী নারায়ণ বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও মেধা পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে জরাজীর্ণ ভবনটি ভেঙ্গে দুইটি ভবনে নির্মাণে অতিথিদের আশ্বাস ছিলো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে। দ্রুত সময়ে দুইটি ভবন নির্মাণ করে সুষ্ঠ পরিবেশে শিক্ষাদানের ব্যবস্থার প্রত্যাশা করেন অতিথিরা।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি নেতা জাকির খানের কন্যা ইহন খান বলেছেন, মনির হোসেন খান আমার দাদা ভাই, দিদার খন্দকার সহ প্রধান শিক্ষিকা, শিক্ষকবৃন্দ, সবাইকে আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শিক্ষার্থীদের স্নেহ। আমি এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আমার প্রেরণা, এই বিদ্যালয়ে সুন্দর একটি ভবনের আশায় আমরা সবাই আশাবাদী। আমার পিতা জাকির খান যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ভবনের কাজ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করতে হবে। আমাদের এই বিদ্যালয়ের ভবনটির কাজ সুন্দর করে যাতে হয় । আমাদের শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই আমরা ভালো করে পড়া লেখা করবো, ভালো মানুষ হবো, শিক্ষকদের কথা শুনবো।
২৭ লক্ষ্মী নারায়ণ বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কল্যাণ কমিটির সভাপতি, ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি ও কাউন্সিলর প্রার্থী দিদার খন্দকার বলেছেন, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কিছু নেই। বক্তব্য আমাদের একটাই দাবি এক। আমাদের সেটা হলো এই প্রাইমারি স্কুলের জরাজীর্ণ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া। মুক্তি না পাইলে আমাদের এই ছোট্ট শিশুরা হয়তো কোনো একদিন এক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে যাবে। আমরা চাই অচিরে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে। তাই আমি আমাদের সামনে উপস্থিত উপজেলা সাহেবকে অনুরোধ করবো অতি তাড়াতাড়ি যেভাবে হোক। যে বরাদ্দের জন্য আল্লাহ সেই পাঁচই আগস্টের পরে আমরা কাছে গিয়েছিলাম আমাদের স্কুলের কমিটি সহ আমরা কমিটির লোকেরা সেখানে আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন। যে বরাদ্দ দেওয়া হবে, সেই বরাদ্দ একটি চিঠিও পর্যন্ত আমরা পেয়েছি। কিন্তু আজ অব্দি সেই কেন চালু হলো না, আমরা জানি না, আমরা আহ্বান করবো যে আপনাদের দ্রুত এই ব্যবস্থাটি নিন, পাশাপাশি গতকালকেও আমরা কিছুদিন আগেও ডিসি সাহেব এবং এমপি সাহেবের নজরে আনতে পেরেছি।
তিনি আরও বলেন, এই স্কুলটির জরাজীর্ণ অবস্থা সেই জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে এমপি সাহেব তার প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন, স্কুলের অবস্থা দেখে গেছেন এবং উনি আমাদেরকে বলেছিলেন এই স্কুলটির উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ আনবেন। তার জন্য দোয়া করি সেটি হচ্ছে এই প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষার যিনি বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর আমরা নারায়ণগঞ্জ সদর বন্দরের এমপি আবুল কালাম সাহেবের মাধ্যমে যাতে আমাদের এই স্কুলের ভবনটি তাড়াতাড়ি যাতে বরাদ্দ হয় এবং স্কুলের বাচ্চাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাতে আমাদের সেই আশা ব্যক্ত করছি। পাশাপাশি আজকে আমি বলছি, যেহেতু আমাদের স্কুলে জরাজীর্ণ অবস্থা আমরা এই মন্দিরের পাশে যে রামসীতা মন্দিরে যেহেতু খালি আছে। সেখানে আলোচনা করে কমলমতি শিশুরা পড়াশুনা করতে পারে। বাচ্চারা একটি নিরাপদ জায়গায় আছে সেখানে নিরাপদ ভাবে পড়ালেখা করতে পারে এই অনুরোধ রাখছি। পাশাপাশি আজকে যারা শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ তোমরা লেখাপড়া করবে খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়া অবশ্যই থাকতে হবে। আজকে আমরা যে কথাটি বলেছি আজকে আমরা যে এখানে বসে আছি। তোমরা আগামীতে সেখানে আসবে কাজেই অবশ্য লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষাকে কাজে লাগানো। লেখাপড়া করে তোমাদের জীবন উন্নত করবে।
বিশেষ অতিথি মনির হোসেন খান বলেছেন, আজকে এই বিদ্যালয় অনেক পুরানো। আমরা এই স্কুলের এই শিক্ষার্থী ছিলাম, ৭৯ সালে স্কুলের ছাদ দিয়েছিলেন জাকির খানের বাবা দৌলত খান। কিছু রাজনৈতিক কারণে সকলে পিছিয়ে পড়ে ছিলাম। বিগত ১৬ বছর আমরা অনেক পিছিয়ে গেছি। রাস্তা ঘাট স্কুলে উন্নয়ন হয়নি। বিশেষ করে এলাকা ক্লাবগুলো সব ধ্বংস হয়ে গেছে। কুলাঙ্গলা রাজনীতিবিদ এই এলাকাকে বিপাকে ফেলে গেছে। বিগত ১৬ বছর রাস্তাঘাট নাই, স্কুলের জল নাই, অনেক কিছু হয় নাই, তারা ধ্বংস হয়ে গেছে। যারা বিক্রি করে খেয়ে পালিয়েছে। যদি সরকারিভাবে অনুদান না দেয় তাহলে স্কুলের উন্নয়ন হবে না। জাকির খান যে আশ্বাস দিয়েছে সেগুলো পালন করবেন।
বিশেষ অতিথি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শওকত উল্ল্যাহ বলেছেন, এই স্কুলটি ঐতিহাসিকভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং আমাদের এই প্রাচ্চের ডান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জ। এখন এই স্কুলটি ও অনেক ঐতিহ্যবাহী, অনেক এবং প্রতি বছরে আমি দেখি যে এখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং খেলাধুলা পুরস্কার দেওয়া হয়। খেলা মাঠ নেই তার মধ্যে এখন একটা জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান করেও আমাদের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করছে। একটা আন্তরিকতার বিষয় এলাকার মধ্যে, আবার আরেকটা হল আমি আরো কৃতজ্ঞতা জানাবো যে যেহেতু আমাদের স্কুলটি ঝুকিপূর্ণ এবং এই মন্দিরের কর্তৃপক্ষ যারা আছেন তারা আমাদেরকে একটা জায়গা ক্লাস করার জন্য দিয়েছে যে এই ব্যাপারেও আমি ওই কর্তৃপক্ষের কাছে যারা মন্দির কর্তৃপক্ষ তাদেরকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যে বিষয়টা সেটা আসলে এটা ২০১৮ সাল থেকে প্রায় আট বছর যাবত এখানে ভবন আসতেছে এবং ভবন যাচ্ছে অনেক সমস্যা হচ্ছে। কারণ হচ্ছে আমাদের শহরগুলোতে অনেক সমস্যা বিদ্যমান থাকে।
তিনি আরও বলেন, দুইটা ভবন একসাথে শুরু হবে। এই শুরু এবং শেষের মাঝখানে একটু সময় লাগতেছে। তারপরেও আমি গত দুদিন আগে আমাদের কাগজপত্র নিয়ে ভুগছিলাম আমাদের এবং ইঞ্জিনিয়ার ভাইয়ের সাথে আলোচনা করে আমরা যাতে এটা কিভাবে দ্রুত করতে পারি স্কুলটি। এবং দ্রুত যাতে এটা একটাই উদ্যোগ নেওয়া যায়। এলাকার যারা আপনারা আছেন তারা আপনাদের আমার সর্বাত্মক সহযোগিতা পাচ্ছি, আমাদের কোথাও কিছু বলতে হলে। আমরা আপনাদের সহযোগিতায় আরো এগিয়ে যাব, এটা মহোদয় এবং ডিসি মহোদয় এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষক মহোদয় সকলেই এই বিষয়টা নিয়ে অবগত আছেন। এবং সর্বক্ষণই প্রতি সপ্তাহে প্রতি মাসেই এই স্লোগান নিয়ে সবাই কিন্তু এই খোঁজ খবর নিচ্ছেন, প্রতি সপ্তাহে যা প্রতিমাসে একজন একজন নিচ্ছেন, অতএব এটা নিয়ে আমাদের কন্সার্ন আছে, এবং আমি তো এখানে এসেছি, এই উপজেলায়, আমিও প্রায় প্রতি মাসেই একবার আসি, এবং সমস্যাগুলি দেখতে আসি। একসাথে আসি তো সব সময় আমাদের একটা ভালো তো আছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা চেষ্টা করবো যত দ্রুত এটাকে অপশনে দেওয়া যায়। আরেকটু মনে হল, আবার বেশি একটা করতে পারলাম তাই না? এটা একটা সুবিধা আর তোমরা সাথে সাথে যারা আছো তাদের সম্পর্কে বলো. যে আজকে যারা পুরস্কার পেয়েছো তাদেরকে সাধুবাদ যারা না পেয়েছো তাদেরকেও সাধুবাদ জানাই।
উপস্থিত ছিলেন, পারভেজ আলম, দিলিপ দাস, প্রদিপ সাহা, কামাল ভাই, ইকবাল আহমেদ শ্যামল, সাজ্জাদ, প্রধান শিক্ষিকা, নুরন্নাহার, সহ প্রমুখ
আপনার মতামত লিখুন :