ছাত্রনেতা সাইদুর রহমানের নিখোঁজ ও ফিরে আসা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের বক্তব্য


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : জুন ২৩, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ন / ১০০০
ছাত্রনেতা সাইদুর রহমানের নিখোঁজ ও ফিরে আসা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের বক্তব্য

ছাত্রনেতা সাইদুর রহমানের নিখোঁজ ও ফিরে আসা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের বক্তব্য

 

গত ১৯ জুন (শুক্রবার) আনুমানিক রাত ৮টা থেকে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ছাত্রনেতা সাইদুর রহমান নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পর পরিবার ও সংগঠনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সকল জায়গায় সন্ধান করেও তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে, নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং প্রশাসন তাদের মতো করে তদন্ত শুরু করে।

 

 

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৭ সালে ছাত্র ফেডারেশন এর তৎকালীন নেতা শাহরিয়াজ শুভ্র দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেছিল। বিগত সময়ের সেই নির্মম নজির এবং বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বাস্তবতায় সংগঠনে সভাপতি সাইদুর রহমানের নিখোঁজে ভয়াবহ আতঙ্ক তৈরি হয়। উৎকন্ঠা ও উদ্বেগের এই পরিস্থিতিতে ছাত্র ফেডারেশন তার সর্বোচ্চ তৎপরতা নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে। পরবর্তীতে, গত ২২ জুন নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সহিহ সালামত সাইদুর রহমানকে উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ সক্রিয়তা-সহায়তা ও নারায়ণগঞ্জবাসীকে সার্বিক তথ্য নিশ্চিতের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার পক্ষ থেকে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

 

 

সর্বশেষ, গত ২২ জুন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় সাইদুর রহমান তাঁর নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন এবং মোবাইল ফোনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে নিখোঁজ জিডির বাদী ও গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তরিকুল ইসলাম, ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক জেলা সভাপতি ফারহানা মানিক মুনা এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সৌরভ সেনসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাঁকে বাসা থেকে জেলা কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।

 

 

উদ্ভুত পরিস্থিতে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ছাত্রনেতা মশিউর রহমান রিচার্ড ও সাধারণ সম্পাদক ছাত্রনেতা সৈকত আরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ছাত্রনেতা শুভ দেবের উপস্থিতি জেলা কমিটির সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত কর্মীসভায় সাইদুর রহমানের ৪ দিন নিখোঁজ থাকা ও ফিরে আসা বিষয়ে সাইদুর রহমান ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণে তিনি মানসিকভাবে ভয়ানক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং কাউকে না জানিয়ে চট্টগ্রাম চলে যান। তার সাথে কোনোপ্রকার মোবাইল ফোন বা যোগাযোগ মাধ্যম না থাকায় তিনি পরিবার কিংবা রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি। তিনি জানিয়েছেন, মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থায় হিতাহিতজ্ঞান হারিয়ে তিনি এসকল কার্যক্রম করে পরবর্তীতে দায়িত্ব উপলব্ধির দরুণ সে শহরে ফিরে এসে নিজ বাসস্থানের দিকে যান। পথিমধ্যে একজন বন্ধুর সাথে সাক্ষাত হলে তার মোবাইল ফোন মারফত তিনি যোগাযোগ করেন এবং বাসার পথে আছেন বলে জানিয়েছেন। পরবর্তীতে, তাকে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের জেলা কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

 

 

সভায় সাইদুর রহমানের মানসিক সুস্থ্যতায় প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিশ্চিতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি উদ্ভুত পরিস্থিতিতে তার মানসিক প্রশান্তি ও চিকিৎসায় মনযোগী হওয়ার লক্ষ্যে সাংগঠনিকভাবে সাময়িক ছুটি প্রদান করা হয়।

 

 

এই ৪ দিন ছাত্রনেতা সাইদুর রহমানের নিখোঁজের পর থেকে শুরু করে তাঁর সন্ধান পাওয়া পর্যন্ত প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, গণমাধ্যমকর্মী এবং আমাদের বন্ধু-স্বজন যারাই আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন, দোয়া করেছেন তাদের সকলকে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

 

 

পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই সাইদুর রহমানের সন্ধানে তৎপর ভূমিকা পালন করেন।