তোলারাম কলেজে সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্র ফেডারেশন নিন্দা


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৫, ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ন / ১০০০
তোলারাম কলেজে সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্র ফেডারেশন নিন্দা

তোলারাম কলেজে সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্র ফেডারেশন নিন্দা

 

 

সরকারি তোলারাম কলেজে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘটিত ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং এর ফলে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, সরকারি তোলারাম কলেজ শাখা।

 

বুধবার (৫ আগষ্ট) ছাত্র ফেডারেশন কলেজ শাখা এক বিবৃতিতে নিন্দা জানান।

 

তোলারাম কলেজ কমিটির আহ্বায়ক রাইসা ইসলাম এবং সদস্য সচিব মুন্নি আক্তার প্রত্যাশা যৌথ বিবৃতিতে বলেন….

 

যে তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থীরা জুলাই অভ্যুত্থানে সাহসিকতার সঙ্গে অংশ নিয়েছিল এবং যেখানে চারজন শিক্ষার্থী শহীদ হয়েছেন, সেই ক্যাম্পাসে আজ পেশিশক্তির প্রদর্শন, সহিংসতা ও রক্তপাতের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন প্রতিষ্ঠার; সেই আকাঙ্ক্ষা পরিপন্থী যেকোনো সহিংসতা নিন্দনীয়।

রাজনৈতিক বা আদর্শিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেই মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ানো, ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে।

 

বিবৃতিতে আরো বলেন,

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন মনে করে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনো রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার বা শক্তি প্রদর্শনের জায়গা নয়; বরং এটি মুক্ত চিন্তা, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্র। তাই ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নিম্নোক্ত দাবিগুলো জানাচ্ছে—

১. সরকারি তোলারাম কলেজে সংঘটিত ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২.ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষার জন্য ক্রিয়াশীল সকল সংগঠন নিয়ে ‘পরিবেশ পর্ষদ গঠন’ করতে হবে।

৩.ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ক্লাস-পরীক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ দ্রুত ফিরিয়ে আনতে হবে।

৪. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পেশিশক্তির প্রদর্শন, সহিংসতা ও আধিপত্য বিস্তারের রাজনীতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

৫.সকল ছাত্র সংগঠনকে সংযম প্রদর্শন করে সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার উদ্যোগ নিতে হবে।