নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন ও প্রিপেইড মিটার ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৬, ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ন / ১০০০
নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন ও প্রিপেইড মিটার ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন ও প্রিপেইড মিটার ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

 

 

নারায়ণগঞ্জ জেলার উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে অরাজনৈতিক ও সেবামূলক সংগঠন ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’।

 

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। এ সময় উভয় পক্ষ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

 

স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলো হলো সাধারণ গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য প্রিপেইড মিটার স্থাপন স্থগিত করা, নারায়ণগঞ্জকে ‘বিশেষ’ শ্রেণির জেলায় উন্নীত করা, মেট্রোরেলের সংযোগ নারায়ণগঞ্জ শহর পর্যন্ত সম্প্রসারণ, যানজট নিরসনে চাষাঢ়া থেকে কমলাপুর পর্যন্ত রেল চলাচল সীমাবদ্ধ রাখা এবং হাজীগঞ্জ ও সোনাকান্দা দুর্গকে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা।

 

আলোচনায় অংশ নিয়ে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, প্রিপেইড মিটার কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়, এটি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়। তিনি বলেন, অতিরিক্ত কোড ও ডিজিট ব্যবহার সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হচ্ছে। এছাড়া নিম্ন আয়ের মানুষ, বিশেষ করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের পক্ষে অগ্রিম অর্থ জমা দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা কষ্টসাধ্য। তিনি বিষয়টি সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির বলেন, “আপনারা নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি বিষয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে এনেছেন। এর মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে ইতোমধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতি রয়েছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জকে বিশেষ ক্যাটাগরির জেলায় উন্নীত করার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া হাজীগঞ্জ ও সোনাকান্দা দুর্গের উন্নয়নে সিটি করপোরেশন ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সমন্বয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

 

প্রিপেইড মিটার প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, “আপনাদের দাবিটি ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ও সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কাজ সাময়িকভাবে ধীরগতিতে রাখা হতে পারে। তাই সবাইকে ধৈর্য ধরার এবং কোনো ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

 

সভায় উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ নূর উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন মন্টু, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

 

 

 

জামায়াতপন্থী ৭ অতিরিক্ত ও সহকারী পিপি-জিপির পদত্যাগ

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতে দায়িত্ব পালন করা জামায়াতপন্থী সাতজন আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি), সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ও সহকারী গভর্নমেন্ট প্লিডার (জিপি) পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

 

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে তারা জেলা ও দায়রা জজ এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। একইসঙ্গে পদত্যাগপত্রের একটি অনুলিপি জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও প্রদান করা হয়।

 

পদত্যাগকারী আইনজীবীরা হলেন— অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট ইসরাফিল হোসাইন ও অ্যাডভোকেট গোলাম সারোয়ার; সহকারী গভর্নমেন্ট প্লিডার অ্যাডভোকেট মাইনুদ্দিন মিয়া ও অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর দেওয়ান; সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আক্তার হোসেন ও অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান।

 

পদত্যাগপত্রে তারা উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকারের ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিষয়ে সরকারের অবস্থান এবং সাম্প্রতিক কয়েকটি পদক্ষেপের সঙ্গে তাদের মৌলিক মতপার্থক্য রয়েছে। এছাড়া বিচার বিভাগের জন্য স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় সরকারের বিরোধিতা এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে বিচারপতি নিয়োগে সরকারি প্রভাব বাড়ার আশঙ্কাও তারা তুলে ধরেন।

 

তাদের দাবি, এসব কারণে সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ‘বিবেকের তাড়নায়’ তারা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পদত্যাগকারী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আক্তার হোসেন বলেন, বিএনপি সরকারের জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনীহা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার মতো কয়েকটি কারণে আমরা এ পদে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

 

তিনি আরও জানান, পদত্যাগকারী সাতজনই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক এবং জামায়াত-সমর্থিত সংগঠন বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত।

 

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান কবির বলেন, আমরা পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি। এ বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে।