তেল মিলছে না অনেক জায়গায়, হতাশা-বিরক্তি চালকদের


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : মার্চ ২৯, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ন / ১০০০
তেল মিলছে না অনেক জায়গায়, হতাশা-বিরক্তি চালকদের

কাঁচপুর থেকে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে মুন্সিগঞ্জে বোনের শ্বশুর বাড়িতে যাবার উদ্দেশ্যে বের হন মুস্তাফিজুর রহমান। সাথে ছিলেন তার বৃদ্ধ বাবা। যাত্রাপথে তেল ফুরিয়ে গেলে মোটরসাইকেল ঠেলতে ঠেলতে সাইনবোর্ড এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে ঢোকেন তারা।

 

কিন্তু জ্বালানি তেলের ফিলিং স্টেশনটিতে ঢুকে দেখেন সেখানে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড সাঁটানো। রোদের মধ্যে মোটরসাইকেলটি ঠেলে আনতে গিয়ে ক্লান্ত বাবা ছেলে তখন পাশে একটি গাছের তলায় বসে পড়েন।

 

কথা হলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের সংকটে নিজেদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন মুস্তাফিজুর। তিনি বলেন, “তেল শেষ হয়ে যাওয়ার পর অনেক কষ্ট করে এখানে আসলাম। কিন্তু এখানে এসে শুনি তেল নেই। এখন কী করবো বুঝতে পারছি না।”

 

সাইনবোর্ডে ওই ফিলিং স্টেশনের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার থেকে তাদের স্টেশনে কোনো তেল নেই। ডিপোতে একাধিকবার গাড়ি পাঠিয়েও তেলের মজুদ করতে পারেননি।

 

রোববার সকালেও একটি গাড়ি ডিপোতে পাঠানো হয়েছে, যা দুপুর দুইটা পর্যন্ত ফেরেনি। ডিপো থেকে তেল পাওয়া গেলে স্টেশনে তা বিক্রি করা হবে বলেও জানান এ ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকর্তা।

 

তেল বিক্রি বন্ধ থাকায় অলস সময় পার করতে দেখা গেছে এখানের কর্মীদেরও। তারা কেউ পত্রিকা পড়েছিলেন, অন্যরা একে-অপরের সঙ্গে খোশ-গল্পে ছিলেন ব্যস্ত।

 

দশ মিনিট পর্যবেক্ষণে এ ফিলিং স্টেশনে সাতটি মোটরসাইকেল তেল নিতে এলেও সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিরক্তি নিয়ে ফিরে গেছেন।

 

মিজান নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, “দেশে তো তেল আসতেছে। এমন তো না যে তেল নাই। সরকার বলতেছে, পর্যাপ্ত তেল মজুদ আছে। কিন্তু আমরা তো রোডে বের হলে তেল পাচ্ছি না। গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হইলেই ঠেলে ঠেলে যেতে হয়।”

 

জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে একই চিত্র। বেশিরভাগ স্টেশনে তেল বিক্রি বন্ধ। যেগুলোতে মিলছে তাও রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি হচ্ছে। যা অপর্যাপ্ত বলছেন, যান চালকরা।

 

ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল না পাওয়া গেলেও খুচরা বাজারে অতিরিক্ত দামে তেল ঠিকই বিক্রি হচ্ছে বলেও অভিযোগ যানবাহনের চালকদের।

 

যোগাযোগ করা হলে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইলের মেঘনা ডিপোর ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এখন সপ্তাহে সাত দিনই ডিপো থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। আমাদেরকে যেই পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেয়া হচ্ছে সেইটাই দিচ্ছি আমরা।’