সাবেক মেয়র আইভীকে দেখতে যাওয়ার পর চাকরিচ্যুত নাসিকের কর্মচারী 


Kamrul Islam Sohel প্রকাশের সময় : জুন ৫, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ন / ১০০০
সাবেক মেয়র আইভীকে দেখতে যাওয়ার পর চাকরিচ্যুত নাসিকের কর্মচারী 

সাবেক মেয়র আইভীকে দেখতে যাওয়ার পর চাকরিচ্যুত নাসিকের কর্মচারী

 

জামিনে জেল থেকে কারামুক্তির পর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকে তাঁর বাসায় দেখতে যাওয়ার অভিযোগে টরিক আহমেদ নামের সিটি কর্পোরেশনের চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। নগরীর দেওভোগে আইভীর পাশের বাড়ির বাসিন্দা কামাল আহমেদের ছেলে টরিক আহমেদ এ অভিযোগ করেছেন।

 

তিনি দাবি করেছেন, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন তাঁকে ডেকে নিয়ে সাবেক মেয়র আইভীর বাসায় যাওয়ার বিষয় নিয়ে কথা বলেন। এরপর তিনি চাকরি থেকে ছাঁটাই হন।

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান চাকরিচ্যুত করার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, সাবেক মেয়র আইভীর সঙ্গে দেখা করার কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি।

 

টরিক আহমেদ জানান, তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে পিয়নের কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার ৪ জুন দুপুরে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন তাঁকে ডেকে নিয়ে বলেন, টরিক বুধবার রাতে সাবেক মেয়র আইভীর বাসায় গিয়েছিল। তার ছবি ফেসবুকে এসেছে। বিষয়টি অস্বীকার না করে তিনি জানান, প্রতিবেশি হওয়ায় ও দীর্ঘদিন পর জেল থেকে ছাড়া পাওয়ায় তিনি আইভীকে দেখতে গিয়েছিলেন। তার উত্তরে প্রশাসক তাকে সাবেক মেয়র আইভীর কাছ থেকে বেতন নিতে বলে তাকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করেন।

 

‎এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, টরিক নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাজ করে একটি ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় চাকরি করেন। সিটি করপোরেশনে হাজিরা দিয়ে তিনি চলে যান। এ অভিযোগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সাবেক মেয়র আইভীর সঙ্গে দেখা করায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি।

 

জামিনে মুক্তি পেয়ে বুধবার রাত সাড়ে ১২টায় নিজ বাড়িতে পৌঁছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। এরপর আত্মীয়স্বজন আর শুভানুধ্যায়ীরা একে একে দেখা করতে আসছেন তাঁর সঙ্গে। অনেকেই ফোনে কথা বলছেন। ‎বিকেলে আইভীর বাসায় যান সাবেক নারী কাউন্সিলর মিনুয়ারা বেগম, শাওন অংকন, সাদিয়া সাউদ, সাবেক কাউন্সিলর মুক্তিযোদ্ধা অলিউর রহমান। তাদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে বছর খানেক আগে মারা যাওয়া ভাইয়ের কথা মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়েন আইভী।

 

গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টা এবং বিস্ফোরক আইনে ১২টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

এদিকে সাবেক এই মেয়রের বাসার সামনে অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা বসিয়েছে জেলা পুলিশ। নারায়ণগঞ্জে তাঁর বাসায় যাওয়ার আগ মুহূর্তে বাড়ির গেটের সামনের ল্যাম্পপোস্টে এই সিসি ক্যামেরা বসানো হয়।

 

এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, এই সিসি ক্যামেরা শুধু সাবেক মেয়রের বাড়িকে কেন্দ্র করে লাগানো হয়নি। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রোধে সিসি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সাবেক মেয়রের বাসার সামনেও সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এলাকায় মোট চারটি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।

 

তিনি জানান, সাবেক মেয়রের সঙ্গে মানুষজন দেখা করতে আসতে পারবে। তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করছেন কিনা, রাজনৈতিক সভা করছেন কিনা, এটি পুলিশ নজরদারি করবে। তেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন আইভী। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনেও মেয়র পদে জয়ী হন তিনি।